এক মসজিদেই কেটে গেল জীবনের ৩৬টি বছর। দীর্ঘ এই সময়ে প্রতিদিনের আজান, নামাজের ইমামতি, খুতবার বয়ান আর ধর্মীয় নসিহতের মাধ্যমে এলাকার মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্ক। সেই পরিচিত মেহরাব, মুসল্লিদের কাতার ও প্রিয় মানুষগুলো ছেড়ে এবার বিদায় নিলেন মাওলানা তাজউদ্দিন।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন দক্ষিণ পাড়া আজিজিয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা তাজউদ্দিন দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। অসুস্থতাজনিত কারণে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ায় তাঁকে ঘিরে আয়োজন করা হয় আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঈশ্বরখাইন দক্ষিণ পাড়া আজিজিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈশ্বরখাইন ও আলামপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মসজিদের সাবেক ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুসল্লি ও এলাকাবাসী মাওলানা তাজউদ্দিনের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘদিনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন, তাঁর কণ্ঠে আজানের ধ্বনি, তাঁর ইমামতিতে নামাজ আদায় এবং খুতবার বয়ান এই মসজিদের সঙ্গে তাঁদের জীবনের দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি হয়ে আছে।
দীর্ঘ ৩৬ বছরে এলাকার বহু মানুষ তাঁর কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের সঙ্গে তাঁর তৈরি হয়েছে আন্তরিক ও আত্মিক সম্পর্ক।
বিদায়ের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক মুসল্লি ও এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের পরিচিত ইমামকে বিদায় জানাতে গিয়ে তাঁদের কণ্ঠে উঠে আসে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতির কথা।
এ সময় ঈশ্বরখাইন ও আলামপুর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মাওলানা তাজউদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তাঁর দীর্ঘ ৩৬ বছরের ইমামতি জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী এক বছরের বেতন, দুই ঈদের বোনাস, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাওলানা তাজউদ্দিনের দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন এবং তাঁর অসুস্থতার জন্য দোয়া করেন। তাঁরা বলেন, ইমামতির দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেও মসজিদ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা শেষ হওয়ার নয়।
এ সময় বক্তব্যে মাওলানা তাজউদ্দীন বলেন, “এই মসজিদে ৩৬ বছর ইমামতি করতে পেরেছি, এটি আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কাটানো এই দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি কখনো ভুলব না। অসুস্থতার কারণে আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।”
শেষে মাওলানা তাজউদ্দিনের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।