একসময় বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে দুর্ভোগ, ভাঙাচোরা সড়কে নিত্য ভোগান্তি আর জরুরি রোগী নিয়ে ছুটতে গিয়ে আতঙ্ক—এটাই ছিল ভাঙ্গার প্রত্যন্ত জনপদের অনেক মানুষের বাস্তবতা। সেই চিত্র বদলের প্রত্যাশায় এখন উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছেন ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষ।
রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামো ঘিরে একের পর এক উন্নয়ন উদ্যোগে এলাকায় তৈরি হয়েছে আশাবাদের আবহ। বিশেষ করে ভাঙ্গায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ, ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এবং আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি।
মানুষের কাছে যাচ্ছেন এমপি বাবুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি দরিদ্র, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্থানীয় সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শুনছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি জানার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা। এতে এমপি বাবুলের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আস্থাও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বাবুল সাহেব এলাকায় এসে মানুষের সঙ্গে মিশছেন, গরিব-অসহায় পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, তাদের কথা শোনার একজন মানুষ আছেন।”
আরেক বাসিন্দার বলেন, “উন্নয়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে গ্রামের মানুষের। রাস্তা ভালো হলে কৃষক ফসল নিয়ে সহজে বাজারে যেতে পারবেন, রোগী দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারবেন। আমরা চাই এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।”
৪৩ সড়ক প্রকল্পে বদলের প্রত্যাশা ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বর্ষায় কাদা-পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের।
এ অবস্থায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগকে ঘিরে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সড়ক উন্নয়ন হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ হবে না—কৃষকের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারিকরণের পথে ভাঙ্গা মহিলা কলেজ
যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে স্থানীয় উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির পর ২০০৪ সালে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়। গত ১৩ আগস্ট কলেজটি সরকারিকরণের জন্য আবেদন করা হয়। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কলেজটি সরকারি হলে ভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এক অভিভাবক বলেন, “মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে পাঠাতে অনেক পরিবারই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারি হলে এলাকার অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা উপকৃত হবে।”
ট্রমা সেন্টার হলে বদলে যাবে জরুরি চিকিৎসার চিত্র
ভাঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আধুনিক ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের।
স্থানীয়দের আশা, ভাঙ্গায় আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ভাঙ্গার পাশাপাশি সদরপুর, চরভদ্রাসন ও আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন।এবংসড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। খালগুলো সচল হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
এক কৃষক বলেন, “আমাদের জন্য রাস্তা যেমন দরকার, তেমনি খালও দরকার। রাস্তা দিয়ে ফসল বাজারে যাবে, আর খাল ঠিক থাকলে জমিতে পানি জমে নষ্ট হবে না। দুটো কাজ হলে কৃষক সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।”
উন্নয়নের সুফল চান সাধারণ মানুষ ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।”তিনি আরও বলেন, ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণ এবং আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা এলাকার মানুষের জন্য বড় অর্জন হবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
জনপ্রতিনিধিকে পাশে চান মানুষ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের মানও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে টেকসই কাজ, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যেটা কয়েক বছর পরও মানুষের কাজে থাকবে। শুধু রাস্তা বানালেই হবে না, রাস্তার মান ভালো হতে হবে। উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের আস্থাও ধরে রাখতে হবে।”
সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনে উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগকে ঘিরে বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষ। এখন তাদের অপেক্ষা—পরিকল্পনা ও উদ্যোগগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়ে বাস্তবের মাটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনে।