দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশেই বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণে চরম অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন এবং স্বজনপ্রীতির ঝড় উঠেছে। সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় হাতে গোনা দু-একটি ইউনিয়ন ব্যতীত সর্বত্রই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির চিত্র
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিনামূল্যে প্রাপ্য এসব ভাতা কার্ডের জন্য অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। বিগত সরকারের সময়ে নির্বাচিত একাধিক চেয়ারম্যান-মেম্বার সিন্ডিকেট তৈরি করে পুরনো দুর্নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি,বিএনপি সরকার কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ‘কার্ড বাণিজ্য’ ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনমনে ক্ষোভ ও স্থানীয়দের দাবি
স্বল্প আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার হরণের এই ঘটনায় পুরো বিরল উপজেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধু প্রতিনিধিদের এমন অপকর্ম তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী ও এলাকার সাধারণ জনগণের মূল দাবিগুলো হলো:
সংসদ সদস্যের কঠোর হস্তক্ষেপ: অবিলম্বে দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরীর সরাসরি তদারকি ও অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
জরুরি তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা: একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অসাধু চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তকরণ: ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করে প্রকৃত অসচ্ছল, বিধবা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে দ্রুত স্বচ্ছতার সাথে সরকারি ভাতা কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করা।
অসহায় মানুষের এই হাহাকার দূর করতে এবং এলাকায় সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় এমপি পিনাক চৌধুরীর আশু ও কড়া পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন বিরলবাসী।