তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে হয়রানি, অশালীন আচরণ এবং বিদ্যুৎ মিটারের ক্ষতি করার হুমকির অভিযোগে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন এক গ্রাহক। অভিযোগের প্রতিকার, আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে দায়ের করা অভিযোগের ডায়েরি নম্বর এডিআর-২৫০৬/২০২৬। অভিযোগটি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৬ হওয়ায় অভিযোগের তারিখটি সংশ্লিষ্ট নথি থেকে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ সূত্রেজানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জহুর মিয়ার ছেলে মো. মোছাদ্দেক আলী তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বিউবোর কাছে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। এরই জের ধরে গত ৩ আগস্ট ২০২৬ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী আশিষ সিংহ তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপবাদ দেওয়া হয় এবং তার বিদ্যুৎ মিটারের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন, সরকারি দপ্তরের কাছে তথ্য চাওয়া একজন নাগরিকের আইনগত অধিকার। সেই কারণে প্রকাশ্যে কাউকে হুমকি বা হয়রানি করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সাংবাদিক অমিত তালুকদার বলেন, তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো নাগরিককে হয়রানি করা হলে সেটি উদ্বেগজনক। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী মো. মোছাদ্দেক আলী বলেন, তথ্য অধিকার আইন মেনে সরকারি তথ্য চাওয়া একজন নাগরিকের আইনগত অধিকার। কিন্তু তথ্য চাওয়ার কারণে আমাকে যেভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আইনি প্রতিকার ও নিরাপত্তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করেছি।
এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে আইনজীবীরা বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তথ্য চাওয়ার কারণে কোনো নাগরিককে হয়রানি করা হলে তা আইনগতভাবে গুরুতর বিষয় হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমদ বলেন, উনি যেহেতু সবার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য চাইতে পারে তাহলে উনার মিটার সংযোগও চেক করা দরকার