কক্সবাজার জেলার নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার শাহারবিলস্থ চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনে কক্সবাজার-ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি কার্যকরের দাবিতে রেলমন্ত্রী বরাবর ফের আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর একই দাবিতে আবেদন করার পর ৭ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনে কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হয়নি।
আবেদনকারী সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সাঈদী আকবর ফয়সাল বলেন, চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, লামা ও আলীকদমসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনটি ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থিত। অথচ আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় বৃহৎ জনগোষ্ঠী রেলসেবার প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে অন্তত একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর জন্য রেলমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় সাংবাদিক নুরুল ইসলাম সুমন বলেন, চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এখন সময়ের দাবি। চকরিয়া-পেকুয়া ছাড়াও মাতামুহুরী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও পর্যটকদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না হওয়া দুঃখজনক। জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াত সুবিধা ও এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করবে।