ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার সাংবাদিক মো. জহির মোল্লা (৪২) গত ২০ জানুয়ারি রাতে আটক হওয়ার পর থেকে প্রায় ছয় মাস ধরে জেলা কারাগারে রয়েছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একটি অস্ত্র মামলায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তারা তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জহির মোল্লাকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন। পরে বাড়ির আঙিনা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরিবারের দাবি, অস্ত্রটি বাড়ির সামনে তাঁর দাদার কবরসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হলেও পর্যাপ্ত তদন্ত ছাড়াই তাঁকে আসামি করা হয়েছে।
স্বজনদের বক্তব্য, জহির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি মানবাধিকারভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের জেরে তিনি প্রভাবশালী একটি মহলের বিরাগভাজন হয়ে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার আগে জহির মোল্লা কানাইপুর বাজারে ‘কৃষাণি’ ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পরে তিনি জেড অ্যান্ড রাইস কনজ্যুমার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় সক্রিয় ভূমিকার কারণেও তিনি বিভিন্ন মহলের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন।
পরিবারের তথ্যমতে, জহির মোল্লা দৈনিক আজকের গোয়েন্দা সংবাদ ও বঙ্গ টিভির সঙ্গে কাজ করতেন এবং ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, স্বামী অপরাধ করে থাকলে আইনের বিধান অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত; আর নির্দোষ হলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।