সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জুলাই: নিজের বোনের নির্মম প্রতারণা আর স্বামীর পরিত্যাগের শিকার হয়ে জীবন-সংগ্রামে নুয়ে পড়েছেন ২৮ বছর বয়সী বানু আক্তার।
নিজের ছেলের মুখে বাবার পরিচয় দিতে না পারা এবং ছেলের জন্ম নিবন্ধন না থাকায় তার লেখাপড়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া—এই দুঃখে তার সংসারের চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ।
বানু আক্তারের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চুরবাদাম পোস্টের চোড় পোড়াগাছা গ্রামে। তার পিতা মোজাম্মেল হক ও মাতা ফখরুন নেছা।
বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার জামগড়া তেতুলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে জীবন-যাপন করছেন।
বানু আক্তারের অভিযোগ, তার নিজের বড় বোন গোলাপজান বেগম (বর্তমান ঠিকানা: দোলাইখাল, ঢাকা) তাকে ঘরোয়া ভাবে এক মুন্সির মাধ্যমে প্রায় ৪০ বছর বয়সী এক যুবক ফারুকের সাথে বিয়ে দেয়।
বিয়ে সংক্রান্ত এই প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি সংসারে প্রবেশ করেন। কিন্তু মাত্র ৪ মাস সংসার করার পর তার পেটে সন্তান আসলে স্বামী ফারুক কোনও খোঁজ না রেখেই পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্বামী পালিয়ে যাওয়ার পর বানু আক্তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন, নাম মোঃ পারভেজ (১৫)। কিন্তু স্বামীর পরিচয়হীনতায় ছেলের জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন ছাড়া স্কুলে ভর্তি হওয়া যায় না, যার ফলে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পারভেজ।
কোনও কাজকর্ম না থাকায় সংসারের আর্থিক অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের আইনে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া এবং গর্ভবতী অবস্থায় স্ত্রী ও সন্তানকে পরিত্যাগ করে চলে যাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া, সন্তানের জন্ম নিবন্ধন না থাকায় ভবিষ্যতে তার পাসপোর্ট, চাকরি ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পেতেও বাধা তৈরি হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলার এই নারী বর্তমানে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় নানাভাবে সংগ্রাম করছেন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিবর্গ এগিয়ে এলে হয়তো পারভেজের মতো একটি শিশুর ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়া সম্ভব।