রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, বাংলামোটর, মগবাজার ও উত্তরা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র নকল ব্যাংক চেক প্রস্তুত ও ভুয়া ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম (মজিবর) নামে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের MICR চেক নকল করে লেনদেন করে। পরে চেক ডিজঅনার হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। এছাড়া ব্যাংকের নামে ভুয়া ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে OTP সংগ্রহের অভিযোগও আছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো টাকার পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষ।
গতকাল মতিঝিলে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করে দ্রুত চক্রটি গ্রেফতারের দাবি জানান। “আমাদের জীবনের সঞ্চয় শেষ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডির হস্তক্ষেপ চাই” – বলেন এক ব্যবসায়ী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কয়েকটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। BFIU-এর সাথে সমন্বয় করে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পেলে মানি লন্ডারিং ও প্রতারণা মামলা হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক কী বলছে?
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট BFIU জানিয়েছে, নকল চেকের বিষয়ে তারা জিরো টলারেন্সে আছে। “সন্দেহজনক লেনদেন হলেই হিসাব ফ্রিজ করা হয়। গ্রাহকদের অনুরোধ, চেক নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখায় ফোন করে যাচাই করুন। OTP কখনও শেয়ার করবেন না” – বলেন BFIU-এর একজন মুখপাত্র।
বিশেষজ্ঞ মত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, “নকল চেক ঠেকাতে Positive Pay System বাধ্যতামূলক করা জরুরি। ৫ লাখ টাকার উপরে সব চেক ইস্যুকারীর কনফার্মেশন লাগবে।”