খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের মাইনী নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের বেইলি সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজারের বেশি হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, স্থানীয় যানবাহনের পাশাপাশি পর্যটকবাহী গাড়ি, সীমান্ত সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সিমেন্ট, ইট, পাথর, বনজ কাঠ ও বাঁশবোঝাই ভারী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করছে সেতুটির ওপর দিয়ে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেতুর ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পরছে শিক্ষার্থী, রোগী, পর্যটক, সাধারণ মানুষ, গাড়ি চালকসহ অন্যান্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার দশক আগে অস্থায়ী ভিত্তিতে মাইনী নদীর ওপর বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত এক দশকে একাধিকবার (২৭ অক্টোবর ২০১৭ ও ৭ মার্চ ২০২৩) কাঠ ও পাথর বোঝাই ট্রাক সেতু পারাপারের সময় পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকবার সাজেক পর্যটন কেন্দ্রসহ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরোনো সেতুটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ভেঙ্গে বারবার সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান দেখা যায়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ইজি বাইক চালক মো. সাগর বলেন, অনেক সময় কবাখালি স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও বাবুপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ কি.মি জ্যাম তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পরতে হয় আমাদের।
পর্যটকবাহী গাড়ি চালক মো. রিয়াজুল বলেন, সাজেকে পর্যটক নিয়ে যাওয়ার সময় মাইনী ব্রীজের এই বেইলী সেতুতে জ্যামে আটকে অনেক সময় বাঘাইহাট থেকে সেনাবাহিনীর সাড়ে ১০ টার স্কট মিস হয়ে যায়। পরে বিকেলের স্কটে গন্তব্যে পৌছাতে হয়। এতে করে পর্যটকসহ আমরা গাড়ি চালকদের বেশ ভোগান্তিতে পরতে হয়।
ট্রাক চালক মো. সুমন বলেন, ট্রাকে পণ্য নিয়ে যাওয়া বা আসার সময় সেতুটি দূলতে থাকে। এর আগে কয়েকবার কাঠ ও পাথর নিয়ে সেতুটি ভেঙ্গে পরেছে। তাই পণ্য নিয়ে পারাপারের সময় একটু দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। যেকোনো সময় দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, “মাইনী বেইলি সেতুটি সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (২০ ইসিবি) অধীনে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পরিবর্তে দ্রুত একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, সাজেক ও বাঘাইছড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা এই সেতু। তবে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারী যানবাহন পারাপারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।