খুলনা ব্যুরো : খুলনা মহানগরীর রেলিগেট ( নগরঘাট) ও দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভৈরব নদীতে সড়ক ও জনপদ ( সওজ) বিভাগের ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহন এবং যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত খেয়াঘাট ইজারাদার শেখ আলী আকবর ও তার লোকজন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ঔই তান্ডব চালাচ্ছেন। ফেরিঘাটের প্রবেশ পথে চেয়ার ও বাশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিশে নেওয়া হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির কারনে খুলনা মহানগরী, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এবং দুর পাল্লার চালকেরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে জোরপূর্বক টাকা আদায়: স্বরজমিনে রেলিগেট ফেরিঘাটে দেখা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন জুট মিলের কাঁচামাল ও রপ্তানিযোগ্য পন্যবাহী ট্রাক, লাখোহাটি গ্রাম থেকে সাদা মাছের পোনা পরিবাহী পিকআপ সহ শতশত জরুরি পন্যবাহী যানবাহন প্রতিদিন এই রুটে পারাপার হয়। কিন্তু ফেরিতে ওঠার আগেই ইজারাদার আলী আকবরের লোকজন রাস্তার মাঝে চেয়ার ও বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখছে। বাস,মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল এমনকি ভ্যান – বাইসাইকেলও সাধারণ যাত্রীরাও এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সরকারি কোন মুল্য তালিকা ছাড়াই ইচ্ছেমতো দ্ধিগুন – তিনগুন টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ যাত্রীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
চালক ও ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ: এসিআই কোম্পানির প্লাস্টিক পাইপ বোঝাই ট্রাকের চালক মোঃ ইয়াসিন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ” ফেরি পার হওয়ার আগেই রেলিগেট প্রান্তে চেয়ার- বাঁশ দিয়ে আটকে ইজারাদারের লোকজন দুইটা রশিদ ধরিয়ে দিয়ে যাওয়া- আসা বাবদ ১৫০ টাকা কেটে নেয়। আমরা দুর দুরান্ত থেকে আসি, তাই মুখ বুজে সহ্য করি। কথা বললেই মার খেতে হয়। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান, যশোর নওয়াপাড়া থেকে আসা শাহ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক চালক কিবরিয়া মাতুব্বর। ওদিকে, এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরি পার হলেও জোর করে টাকা রাখা হয়, কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। ফলে অফিস থেকে যাতায়াত বিলও তুলতে পারেন না তারা।
সওজ ও বিআইডব্লিউটিএ যা বলছে: নিয়ম অনুযায়ী খেয়াঘাটের ইজারাদার কেবল ট্রলার বা নৌকায় পারাপার হওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টোল নিতে পারবেন। সওজ বিভাগের ফেরিতে পার হওয়া যানবাহন বা যাত্রীদের ওপর কর বসানোর কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। এবিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা সড়ক ও জনপথ ( সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তানিমুল হক স্পষ্ট জানান,” রেলিগেট – নগরঘাট ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহন বা যাত্রীদের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারের টাকা আদায় সম্পুর্ন অবৈধ। আমরা এই অবৈধ টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) বিষয়টি অবগত আছেন। খুলনা বিআইডব্লিউটিএ এর উপ- পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, ” খেয়াঘাটের ইজারাদার শুধু খেয়াঘাটের টাকা নিবেন। ফেরির যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কোন নিয়ম নেই। যদি তারা এটি করে থাকে তবে তা সম্পুর্ন অবৈধ। আমি লোক পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব। এদিকে অভিযুক্ত ইজারাদার শেখ আলী আকবরের সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যবহ্নত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, ঘাটটিতে অনতিবিলম্বে প্রশাসনের স্থায়ী পুলিশি পাহারা বসিয়ে এই” বাঁশকল ” সিন্ডিকেট চিরতরে উচ্ছেদ করা হোক।