আগামী ২৫ জুন বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ৫৬ নম্বর (বর্তমান ২০ নম্বর) ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কমিশনার, বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী আলম গুম হওয়ার ১৬ বছর পূর্ণ হবে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তিনি জীবিত নাকি নিহত—এ বিষয়ে আজও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মামলার বিচারকাজও এখনো শুরু হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাঁরা প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অপেক্ষা আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। তাদের প্রত্যাশা, সত্য উদ্ঘাটন হবে এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ২০ জুন এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, “চৌধুরী আলম শুধু নন, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। তারা জীবিত আছেন, নাকি তাদের হত্যা করা হয়েছে—এ বিষয়ে দেশবাসী আজও নিশ্চিত কোনো উত্তর পায়নি। গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের যন্ত্রণা রাষ্ট্রের কাছে একটি বড় মানবাধিকার প্রশ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গুমের মতো জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের রাজনৈতিক পতন ঘটেছে। বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। এই সরকারের অনেক নেতাকর্মীও অতীতে গুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার সত্য উদ্ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় সংসদে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। তিনি তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি, যিনি নিজেও একটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষে কথা বলছেন। তাঁর এই ভূমিকা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি-দাওয়া জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান বলেন, গুম একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, মানসিক কষ্ট ও সামাজিক সংকটের মধ্যে ফেলে দেয়। তাই গুমের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
চৌধুরী আলমের গুমের ১৬ বছর পূর্তিতে তাঁর পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—সত্য প্রকাশ হোক, বিচার হোক এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো পরিবার যেন এমন অসহনীয় অনিশ্চয়তা ও বেদনার শিকার না হয়।