নিউজ ডেস্ক: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কার্যত প্রশাসন ক্যাডারের স্বার্থরক্ষার মন্ত্রণালয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একদল উপসচিব। তাদের দাবি, বেআইনিভাবে তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা অতি দ্রুত ক্যাডার নির্বিশেষে বৈষম্যহীন মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন ক্যাডার ব্যতীত বিশেষজ্ঞ ২৫ ক্যাডারের বেআইনিভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত উপসচিবদের পিএসসির মেধা তালিকা অনুযায়ী নিজ নিজ ব্যাচের সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা নিশ্চিতপূর্বক যুগ্মসচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বেআইনিভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত প্রশাসন ক্যাডার ব্যতীত বিশেষজ্ঞ ২৫ ক্যাডারের ১৩ থেকে ২২তম ব্যাচের উপসচিব’ ব্যানারে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হলো সচিবালয়। সচিবালয় অনেকগুলো মন্ত্রণালয়/বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে একটি মন্ত্রণালয় হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হলো সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের জন্য মেধাভিত্তিক দক্ষ জনসম্পদ তৈরি ও ব্যবস্থাপনা। কিন্তু মন্ত্রণালয়টি কার্যত ‘প্রশাসন’ নামক একটি ক্যাডারের স্বার্থরক্ষার মন্ত্রণালয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে এর আগে জনপ্রশাসন সিনিয়র সচিব বরাবরে আবেদন করে এসএসবির সব সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুলিপি দেয়া সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার মেলেনি দাবি তাদের।
এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এসএসবির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগে সুপিরিয়র জনবল নিয়োগ ও পদায়ন করে থাকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অন্য সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, অর্থসচিব, জননিরাপত্তা সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিব এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল। তাদের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে সরকারের উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদের জনবল। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কর্মকর্তাদের মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুপারিশ করা তাদের একমাত্র কাজ।
পদোন্নতির জন্য তাদের সামনে থাকতে হবে কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা, তাদের সার্ভিস রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট আইনকানুন। প্রত্যেক ক্যাডারের আলাদা আলাদা জ্যেষ্ঠতার তালিকা থাকলেও যখন উপসচিব হিসেবে পুল সৃষ্টি হয়, তখন তাদের জন্য অনুসরণীয় একমাত্র জ্যেষ্ঠতার তালিকা হলো পিএসসি থেকে নির্ধারিত মেধাতালিকা। কিছু এসএসবি সেই তালিকা অনুসরণ করে না বরং প্রশাসন ক্যাডারকে ভিত্তি ধরে পদোন্নতি দিয়ে থাকে। এর ফলে কেবল প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারাই যথাসময়ে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ এই এসএসবি কেবল একটি ক্যাডারকে প্রমোট করার বোর্ড হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি এতটাই ন্যক্কারজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে মার্জ হওয়ার কারণে এই এসএসবি ইকোনমিক নামক একটি টেকনিক্যাল ক্যাডারকে (যারা মাত্র ৫০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে এসেছে) সরকারের পুলভুক্ত পদগুলোতে রাতারাতি পদোন্নতি দিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৫টি বিশেষজ্ঞ ক্যাডার থেকে সম্পূর্ণ মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আগত উপসচিবদের পদোন্নতিবঞ্চিত করে প্রকারান্তরে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে পেশাভিত্তিক ও দক্ষ জনবলের সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আবার তাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে একদিকে সচিবালয়েও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না, অন্যদিকে নিজ নিজ ক্যাডারও তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসএসবি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভুল নীতি ও কর্মকাণ্ডের কারণে মেধাহীন, কোটারী, জুনিয়রদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সরকারের সচিবালয় বা প্রশাসন ব্যবস্থা।
এতে আরো বলা হয়, অতি দ্রুত ক্যাডার নির্বিশেষে বৈষম্যহীন মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন ক্যাডার ব্যতীত বিশেষজ্ঞ ২৫ ক্যাডারের বেআইনিভাবে পদোন্নতি বঞ্চিত ১৩ থেকে ২২তম ব্যাচের উপসচিবদের পিএসসির মেধাতালিকা অনুযায়ী নিজ নিজ ব্যাচের সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা নিশ্চিতপূর্বক যুগ্মসচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।