মোঃ আফ্ফান হোসাইন আজমীর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ রংপুর নগরীতে তীব্র যানজট ও জটলা সবসময় লেগেই থাকে। এ অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ কর্মবিরতি পালন করায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ যানজট ও চলাচলে বিশৃংখলা। কিন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেই যানজট সামলে নিয়ে পুরো শহরটি শৃঙ্খলায় নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ আগষ্ট) রংপুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন আনসার সদস্যরা। নতুন অভিজ্ঞতা হলেও ফুরফুরে মেজাজে দায়িত্ব পালন করছেন তারা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে তারাও অবদান রাখছেন। বসে ছিল না শিক্ষার্থীরাও। তারা পুরো শহরটা পরিষ্কারে নেমেছে। তারা ইটপাটকেল সরাচ্ছেন, দেওয়াল পরিষ্কার করছেন, পোড়া গাড়ি সরিয়ে মানুষের চলাচলের পথ করে দিয়েছেন।
রংপুর নগরীর শিক্ষার্থীরা জানান, রংপুরে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় এমন বিশৃন্খলা হয়েছিলো। যার ফলে ২ মিনিটের রাস্তা ১৫ মিনিটে পার করতে হতো। স্টুডেন্টরা রাস্তা ক্লিয়ার না করলে ভায়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হত। সুশৃঙ্খল করার দায়িত্ব তো কেবল ছাত্রসমাজের না বরং আমাদের সবার। তাই সবাই নিজ দায়িত্বে নিজের দেশ রক্ষা করুন একজন আরেকজনকে ওভারটেক না করে সুন্দর মতো লাইন মেনে চলুন, এবারের স্লোগান হোক- আমরাই দেখবো আমাদের।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন হাসান আলী, মো: হোসাইন আলী, মো: সাব্বির হোসেন, মোছা: নুসরাত জাহান লাবনী, মো: আরঙ্গ, মোছা: সাদিয়া ফারিহা মনি, তানজিনা সহ প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ড দেখে অবিভাবকরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা নিজের তাজা প্রাণ দিয়ে রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে পারে সেটি দেখিয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাস্তা ঘাটে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে তা ভালো কাজ। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, অংশ নিয়েছিলো তারাই বাংলাদেশকে নতুন পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর তুহিন ওয়াদুদ, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডগুলো পথ দেখাবে আগামী নেতৃত্বকে।