জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেষেরচর এলাকায় খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ।
প্রায় ২৮ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের প্রায় ১৫ বছর পরই এর দুই পাশের রেলিং ভেঙে যায়। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সেতুটি সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি অটোভ্যান চলাচল করতে পারে না, ফলে প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
এই সেতুর ওপর দিয়ে মেষেরচর পূর্বপাড়া, মেষেরচর পশ্চিমপাড়া, বড়ইতারি, সর্দারপাড়া ও ঝালরচরসহ সাতটি গ্রামের প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝখানে ঢালাই ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ বসিয়ে কোনোভাবে চলাচল করছেন। দিনে কিছুটা চলাচল সম্ভব হলেও রাতে অন্ধকারে এটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে রেলিং ভেঙে যাওয়ার পর থেকে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উল্টে এক নারী নিহত হন।
ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, সম্প্রতি দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু সেতু থেকে পড়ে মারা গেছে। এর আগেও একইভাবে আরও দুটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতুটি পার হতে হয়। রেলিং না থাকায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, “দিনের বেলায় কোনোভাবে চলাচল করলেও রাতে এই সেতু পার হওয়া খুবই কষ্টকর ও বিপজ্জনক।”
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শামছুল হক জানান, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী, জামালপুর বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।দীর্ঘদিনের অবহেলায় সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।