কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশী যুবক জামাল মাতুব্বরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি কুয়েতের আহমেদী জেলার অপেরা ফার্ম হাউজে কর্মরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য না থাকায়) সকাল ১১টায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় জামালের পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত জামাল মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। পরিবারের সুখের কথা ভেবে প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কুয়েতে পাড়ি জমান জামাল। তিন বছর আগে একবার ছুটিতে দেশে এলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার। তবে প্রিয়জনদের কাছে আর ফেরা হলো না—লাশ হয়ে ফিরলেন তিনি।
জামালের স্ত্রী কাকোলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমার স্বামীর পরিচিত মানুষ। কুয়েতে বাংলাদেশী দূতাবাসের কাছে আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এদিকে, পাশের নগরকান্দা উপজেলার তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী মুন্নু ফকির জানান, তিনি গত ডিসেম্বরে ছুটিতে দেশে আসেন। জামাল যেখানে থাকতেন, সেখান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে তিনি বসবাস করতেন। পহেলা জানুয়ারি সকালে ফোন পাই—জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়, বলেন তিনি। ময়নাতদন্ত শেষে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় মঙ্গলবার জামালের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন। এলাকাবাসী ও স্বজনরা কুয়েতে বাংলাদেশী দূতাবাসের কাছে জামাল মাতুব্বরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।