নওগাঁর নিয়ামতপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইদের হামলায় বড় ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় ব্যবহৃত হয় হাসুয়া ও বাঁশের লাঠি। আহত আব্দুল আলিম (৪২) বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের বাদ-মালনচি এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম বুধবার নিয়ামতপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ভাইদের সঙ্গে আব্দুল আলিমের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশে বাবা ছাতাব আলী মণ্ডল নিজেই ছেলেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দেন। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি।
আব্দুল আলিমের অভিযোগ, তার হাঁস-মুরগি ছোট ভাইদের জায়গায় গেলে তারা তা মেরে ফেলে। এ নিয়ে বিবাদ এড়াতে তিনি কাঁটাতারের বেড়া দিতে গেলে ছোট ভাইরা বাধা দেয়। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
এরপর গত মঙ্গলবার বিকেলে হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে ছোট ভাই আলমগীর হোসেন, মোবারক হোসেন, আব্দুস সালাম, আরিফা ও আরিফ হোসেন দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে মাথায় হাসুয়ার কোপে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে ছোট ভাইদের সঙ্গে আমার বিরোধ চলছিল। তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ দিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তিনি বিস্তারিত বলতে পারছেন না। পরক্ষনে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন,সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।