অনেকেরই ধারণা ছিল, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে না পারলে গোপালগঞ্জ-২ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে এরই মধ্যে।।
গনফোরাম মনোনীত প্রার্থী শাহ মফিজের প্রচার প্রচারণা ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে এরই মধ্যে তিনি প্রবীণ, নবীন ও বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী আংশিক) আসনে বাড়ছে নির্বাচনী আমেজ। দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে এখানে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নৌকার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অনেক ক্ষেত্রেই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নজির রয়েছে।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় এখানকার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে বড় পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা গোপালগঞ্জ-২ আসনের জন্য খুঁজছেন একজন সৎ, গ্রহণযোগ্য ও স্থানীয়ভাবে আস্থাভাজন স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিকল্প কোন প্রার্থী।
সেই জায়গায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ছাত্রনেতা শাহ মফিজের নাম। গণফোরণের পক্ষে উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। সূত্র বলছে , দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই নেতা গোপালগঞ্জে একজন পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত মুখ। বিশেষ করে প্রবীণ ও তরুণ সমাজের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে পদ্মচারণা হয় রাজনৈতিক জীবনের। সব সময় পাশে থেকেছেন অসহায় ও মেধাবী ছাত্রদের।। রাকসুর সাবেক ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।। কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত তাকে নেতৃত্ব স্থানে নিয়ে আসে। এ অঞ্চলের নারী ভোটারদের সঙ্গেও কথা হলে তারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে একজন সৎ, যোগ্য, মানবিক ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মফিজকে চেনেন।
নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তেই আমি প্রার্থী হয়েছি। ২ আসনের সকল ভোটারদের কাছে উদীয়মান সূর্য মার্কায় ভোট চাই।। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গোপালগঞ্জের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের দল বাংলাদেশ গনফোরাম।। দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের এই দলটির পাশে থাকা।
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে গোপালগঞ্জ-২ আসনে যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, সেখানে গণফোরামের মনোনীত এই প্রার্থী- শাহ মফিজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম হয়ে উঠছেন।