সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কানাইঘাট থানাধীন ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের দনা সীমান্ত এলাকা এখন রোহিঙ্গা চক্রের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার ও চোরাচালান চললেও সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবির কার্যকর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
রাত নামলেই সক্রিয় চক্র স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দনা সীমান্তের কয়েকটি অরক্ষিত পয়েন্ট ব্যবহার করে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। এই কাজে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র, যারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে কাজ করছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নির্দিষ্ট সময়েই তাদের চলাচল দেখা যায়। এতদিনে প্রশাসন না জানার কথা নয়।”মানবপাচার ও চোরাচালানের অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্র শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবপাচার, সীমান্তবর্তী চোরাচালান এবং অবৈধ শ্রম বাণিজ্যের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত এলাকার কিছু অসাধু স্থানীয় দালাল এই চক্রকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিজিবির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব বিজিবির হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত টহল ও নজরদারির ঘাটতির সুযোগে এই চক্র দিনের পর দিন সক্রিয় রয়েছে। কেউ কেউ সরাসরি অবহেলার অভিযোগ তুললেও, আবার কেউ রহস্যজনক নীরবতার কথা বলছেন।
এ বিষয়ে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ রোহিঙ্গা চক্রের তৎপরতায় দনা সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কৃষক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার পর চলাচলে আতঙ্ক অনুভব করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, সীমান্তবাসী ও সচেতন মহল দনা সীমান্তে রোহিঙ্গা চক্রের তৎপরতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।