হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে জর্জরিত,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কয়েক কোটি টাকার বেতন-ভাতা মাসের পর মাস বকেয়া পড়ে আছে, এর মধ্যেই সম্প্রতি পৌর তহবিলের টিআর ফান্ড থেকে দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—জনগণের ট্যাক্সের অর্থ কি এভাবেই খরচ হওয়ার কথা?
বর্তমানে মাধবপুর পৌরসভায় কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম।
আবার তিনি উপজেলা অফিসার্স ক্লাবেরও সভাপতি। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে পৌর তহবিল থেকে নিজের সংগঠনকে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি, অন্যদিকে বর্তর্মানে পৌরসভার সদস্যদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের কার্যক্রমে কোনো বাহ্যিক জবাবদিহিতা নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অর্থ বরাদ্দ ছাড়াও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ সংস্কার করে সেখানে অফিসার্স ক্লাবের কার্যক্রম চালানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, অনুমতি ছাড়া শিক্ষা ভবন ব্যবহার কতটা বৈধ—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
হবিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, এভাবে শিক্ষা ভবন অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার বা সংস্কারের বিষয়ে তার জানা নেই, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বরাদ্দের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পৌরসভা থেকে তারা দেড় লক্ষ টাকা পেয়েছেন, তবে বরাদ্দের বৈধতা বা শিক্ষা ভবনে কার্যক্রম চালানো নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।
অন্যদিকে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, পৌরসভার টিআর ফান্ড থেকে অফিসার্স ক্লাবকে দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে,মাধ্যমিক শিক্ষা ভবন যেহেতু উপজেলা প্রশাসনের জমিতে অবস্থিত,তাই ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা নেই।এক্ষেত্রে শিক্ষা অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, অফিসাররা দিনরাত কাজ করেন, তাই এতটুকু বরাদ্দ পাওয়া তাদের প্রাপ্য।এছাড়া পৌর তহবিলের টাকায় টাকায় কোন বিলাসিতা হচ্ছে না।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসার্স ক্লাবের অনেক সদস্য নিয়মিত মাসিক চাঁদা প্রদান করেন না, সংগঠনটি আর্থিক সংকটে থাকায় সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে পৌর তহবিল থেকে, যা জনগণের চোখে অনৈতিক এবং অপব্যবহার।
মাধবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এমএ কাদের বলেন, অফিসারদের কোনো জবাবদিহিতা নেই, নিজেদের ক্লাবে পৌর তহবিলের টিআরের টাকা বরাদ্দ দেন, অথচ সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে কখনোই গুরুত্ব দেন না, অনেক সময় উপজেলা প্রশাসনের
গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে বাদও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে পৌরসভার কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের কয়েক কোটি টাকার বেতন-ভাতা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, পাঁচ মাস আগে পৌরসভার ৩ কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া ১০ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছিলেন, কিন্তু তার কোনো বিচার হয়নি,অথচ অফিসার্স ক্লাবে বরাদ্দ দিতে কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, মাধবপুর পৌরসভার আর্থিক সংকট আরও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে,কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অক্ষম পৌরসভা যখন সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহারে সীমাহীন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে।
তখন অফিসার্স ক্লাবে দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাটি জনমনে স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে ধরছে,আবার অফিসাররা যেহেতু উপজেলাবাসীর জন্যই কাজ করেন তাই তাদের এমন বরাদ্দ পাওয়া অযৌক্তিক কিছু নয় বলছেন কেউ কেউ।
ছবি:মাধবপুরে পৌর প্রশাসক, ইউএনও ও উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি জাহিদ বিন কাসেম।