ময়মনসিংহের ভালুকায় মা ও দুই শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ৩০ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন এবং ঘাতক দেবর গ্রেফতার।জেলার পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় ভালুকা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর মা ও দুই শিশুকে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
ঘটনার ৩০ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত মো. নজরুল ইসলাম (২২) কে ভালুকা মডেল থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবীর এর নেতৃত্বে এসআই মোঃ আমিনুল হক গ্রেফতার করেছে। বুধবার ১৬ জুলাই সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত ১৪ জুলাই দুপুরে ভালুকা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিএন্ডটি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—মোছা. ময়না আক্তার (২৫), তার মেয়ে রাইসা (৫) এবং ছেলে নীরব (২)। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ঘাতক নজরুল ইসলামকে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার নজরুল ইসলাম সম্পর্কে জানা যায়, নিহত ময়না আক্তার ছিলেন তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের মানসিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার দিন খাবার নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ময়না ও তার দুই শিশুকে জবাই করে হত্যা করে নজরুল।
গ্রেফতারকৃত আসামি: মো. নজরুল ইসলাম (২২), পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: কীর্তনখোলা, সেনের বাজার, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন বলেন, “এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড।
প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।” এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। প্রেস ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গফরগাঁও সার্কেল মনোতোষ বিশ্বাস।