মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের প্রতিবাদ,হবিগঞ্জের মাধবপুরে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ না দেওয়া, সংবাদ সংগ্রহে প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ফোনে না পাওয়া,পেশাগত দায়িত্ব পালনে দুর্ব্যবহার,ক্যামেরার সামনে বক্তব্য না দেওয়া— এমন একাধিক অভিযোগ তুলেছেন মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের সদস্যরা বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক মামলার আসামি নেই এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও কেউ জড়িত নন। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সংবাদ কাভারেজে বাধা দিচ্ছেন এবং কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে তাদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন। ফলে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রেসক্লাবটিতে আর টিভি, এশিয়ান টেলিভিশন, দৈনিক ঘোষণা, হবিগঞ্জের বানী,দৈনিক স্বাধীন সংবাদ,আমার সকাল, হবিগঞ্জের জননী, স্বদেশ বিচিত্রা, আমাদের অর্থনীতি, তৃতীয় মাত্রার প্রতিনিধিসহ ২১ সদস্যের কমিটি।অভিযোগ, এসব সাংবাদিকদের অনেককেই উপজেলা প্রশাসনের সরকারি অনুষ্ঠান, সভা বা দাওয়াতনামা থেকে সচেতনভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বক্তব্য চাইলে দু-একজন ছাড়া কেউই ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হন না।
বিষয়টি একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন বলেন,আমরা সাংবাদিকরা বৈষম্যের শিকার।আমরা সরকারের কাছে এর বিচার ও নিরাপত্তা চাই।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, তারা সম্প্রতি উপজেলায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পের অনিয়ম, ছাগল চুরির ঘটনা, এলজিইডি রাস্তার গাছ কাটা,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দূরব্যবহার , সিলিকা বালু পাচারসহ নানা চাঞ্চল্যকর বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এসব সংবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এখন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের প্রতি বৈরী আচরণ করছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন,এ ব্যাপারে আমরা উপরে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।
তবে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।এদিকে হবিগঞ্জের সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং জরুরি তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো: আবুল হাশেম জানান,“বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোঃ মইনুল হক বলেন।
“যদি প্রশাসনের কারও পক্ষ থেকে গণমাধ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ বা কোন আইনের ব্যক্তয় হয়, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”