আমার শহরের অলিগলিগুলো আর নেই আগের মতন। এখন আর সেই প্রিয় আড্ডার জায়গাটাও সেভাবে খুজে পাইনা । খুজে পাইনা যেমন রংধনূর সাত রং মাখা সেই গধুলীর বিকেল। যেখানে কাটিয়ে দিতাম ভাবনাহীন গল্পের পসরা সাজিয়ে। মন্ধুদের আড্ডার আসরে । এখন সেই আড্ডার আসর পছন্দের সেই
জায়গাগুলোও কতনা অচেনা। আজ মনে হয় সেদিনের মত ঠিক ঠিক সময়ে বাইরে যাওয়ার তাড়া আর নাই । চেনা গলায় নাম ধরে আর ডাকেনা কেউ। চাইলেও বন্ধুদের সেই গল্পের আসর আর জমাতে পারিনা। জীবনের প্রয়োজনে ছুটে ছুটে ক্লান্ত সব আয়োজন । অবসরটা কাটে এখন বিছানার চার দেয়ালের মাঝে অতীত স্মৃতি রোমনথনে । মনে পড়ে কত চেনা মুখ, কত প্ৰিয় ক্ষন, কত বন্ধু আপন জন, সব প্রয়োজন ফেলে শেষ ঠিকানায় গেছে চলে। কত স্মৃতি শত কাজের ভিড়েও আজো মনে পড়ে । ভাবতেই এখনও নিজের অজান্তেই আখি পল্লবে ভর করে নোনা জল । ঋদয়ের ক্যানভাসে থরে থরে সাজান আজো রঙ্গীন তুলিতে আকা বিদায় বেলার কতনা স্মৃতি । একদিন আমিও অতীত হয়ে যবো । হয়ত তখনও কারো স্মৃতীর অতল গহবরে হারিয়ে যাব । কোন ভাবনার গধুলী বেলায়, আবার কোন সোন্ধার আবিরে দীগন্তে মিলিয়ে যাব । হয়ত কেউ তখনও আমার ব্যার্থতার গল্প নিয়ে কাব্য লেখার ইচ্ছেটাও হারাবে। অথচ আমি নিজেও ইচ্ছে করেছি কত বার সফলতার চেয়ে আমার ব্যার্থতার কষ্টগুলো তোমাদের শোনাতে । যদি তাতেও কিছুটা কষ্ট আমার মুছে যায় সেটাই সার্থকতা। জানিনা কেন পারিনি সে কষ্টের কাব্য লিখে যেতে। পারিনাই গধূলীর বিকেলের রং হয়ে পুরো আকাশটা জুড়ে নিজেকে রাংগিয়ে দিতে। পারিনি চিল হয়ে দুর আকাশের গায়ে মিলিয়ে যেতে। পারিনাই ভাবনাহীন প্রজাপতি হয়ে ফুলে ফুলে সোহাগ ছড়াতে ।