গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় কলিগ্রাম মুকন্দ বিহারী মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা এবং বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মানবিক শিক্ষক ও শিক্ষা অনুরাগী সমাজসেবক প্রমথ রায় (বাবুর) নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে ফিরছে শৃঙ্খলা, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ক্লাস শুরুর ১৫ মিনিট আগে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় শুরু হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম। পাশাপাশি অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে বিনামূল্যে অতিরিক্ত ক্লাস। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের কোচিং বা প্রাইভেট নির্ভরতা কমার পাশাপাশি অভিভাবকদের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের চাপও কমছে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি প্রমথ রায় (বাবু) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রমথ রায় (বাবু) বলেন, এই দায়িত্বকে আমি কোনো পদ বা সম্মান হিসেবে দেখছি না, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি একটি আমানত। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়-এটাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, অভিভাবক সদস্য আহমদ শেখ, শিক্ষক প্রতিনিধি মাইকেল বাড়ৈ, সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। অতিরিক্ত ক্লাস, নিয়মিত অ্যাসেম্বলি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ফলাফল উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুন্দর করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে পরিবর্তনের পেছনে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের মতে, একজন শিক্ষা অনুরাগী ও কর্মঠ ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে এনে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা এমপি সেলিমুজ্জামানের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
স্থানীয় গ্রাম ডাক্তার ও অভিভাবক বিপুল মণ্ডল বলেন, প্রমথ রায় বাবু একজন স্বনামধন্য শিক্ষক, কর্মঠ ও শিক্ষা অনুরাগী সমাজসেবক। তাকে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি করার মাধ্যমে এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিম একজন যোগ্য ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের নেতৃত্বে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এর সুফল শিক্ষার্থীরা পাবে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তিতলী রায় বলেন, প্রমথ স্যার শিক্ষা অনুরাগী মানুষ। তার নেতৃত্বে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও ভালো হবে বলে আমরা আশা করি। এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিম তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা খুশি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক পল্লবী বিশ্বাস বলেন, নিয়মিত অ্যাসেম্বলি, সময়মতো ক্লাস এবং অতিরিক্ত পাঠদান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
বিদ্যালয়ের সদস্য সচিব ও প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহা বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে এডহক কমিটির সভাপতি প্রমথ রায় (বাবু) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এডহক কমিটির সভাপতি প্রমথ রায় (বাবু) আরও বলেন, সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম মহোদয় যে আস্থা রেখে আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ কাজে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের প্রত্যাশা, এমপি সেলিমুজ্জামান সেলিমের সহযোগিতা ও প্রমথ রায় (বাবুর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই পরিবর্তন যেন ধারাবাহিকতা পায়। বিশেষ করে বিনামূল্যের অতিরিক্ত ক্লাস, নিয়মিত অ্যাসেম্বলি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে জলিরপাড় কলিগ্রাম মুকন্দ বিহারী মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে জেলার মধ্য একটি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।