1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
সুরমা ইউপির আসবাবপত্র হস্তান্তরে বাঁধা - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে সরকার: ভূমিমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভা  উজানের ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, খুলে দেওয়া হলো ৪৪ জলকপাট চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে পানিসম্পদ মন্ত্রীর মতবিনিময় কাজিরহাট জমি সংক্রান্তবিরোধীদের জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে ২জনকে কুপিয়ে যখম জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ভাঙা ঘরেই বিধবা সুখিতনের একাকী জীবন, নেই স্বামী- স্বজন ১২টা মাদ্রাসার এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ লোকমান হুজুরের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচরে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬”উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বিশেষ অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সুরমা ইউপির আসবাবপত্র হস্তান্তরে বাঁধা

reporter শফিকুল বারী, সুনামগঞ্জ
calendar প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:২১ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩নং সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল আসবাবপত্র ও মালামাল হস্তান্তরের ঘটনায় ইউপি সদস্যা ও পুলিশের সাথে দস্তাদস্তি করেছ বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আমীর হোসেন রেজার ভাতিজা শিহাব ও তার আত্মীয় স্বজনরা।

সোমবার ৩ নভেম্বর বিকেল ২টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিমপুর গ্রামস্থিত অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানান,সুনামগঞ্জ সদর থানায় একাধিক মামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজার ব্যক্তিগত হেফাজতে থাকা পরিষদের আসবাবপত্র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ মিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরীন নির্দেশ দেন। কিন্তু বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা অফিসের আসবাবপত্র দেই দিচ্ছি করে সময় ক্ষেপন করার একপর্যায়ে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান।

ঘটনার দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্বাহী আদেশে এসআই রাশেদ এর নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানান্তরকৃত আসবাবপত্রের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন। এসময় বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে তার ভাতিজা তাজুয়ার আফজাল (শিহাব) তার আত্মীয় স্বজনরা ইউপি অফিস তালাবদ্ধ করে মালামাল হস্তান্তরে বাঁধা দেয়।

এবং সংরক্ষিত ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্যা মোছাঃ তানজিনা বেগমের স্মার্টফোন কেড়ে নিয়ে ভাংচুর করে।

এ ঘটনায় পুলিশ শিহাবকে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে বিদেশে থেকে মোবাইল ফোনে আমির হোসেন রেজা পুলিশ দলের উপর হামলা করার জন্য তার গোত্রীয় লোকজনকে নির্দেশ দেন। পরিস্থিতির অবনতির সংবাদ পেয়ে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আরিফ উল্লাহ,এসআই মাহমুদুল ও এসআই অভিজিৎসহ আরেকদল পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান। এসময় সন্ত্রাসী শিহাব উচ্চ সুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে বলে আমি পালিয়ে যাওয়ার ছেলে না র‌্যাব আমাকে ধরতে এসেছে তাও পালিয়ে যায়নি,পুলিশকে দেখে আমি কেন পালাবো।

ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের সামনে গোত্রীয় লোকজনকে ঝড়ো করতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়ীতে অভিযান চালালে সে পালিয়ে যায়।

এসময় বাড়ীতে থাকা শিহাবের বোন (এএসপির স্ত্রী) স্বামীর দাপট প্রভাব খাটিয়ে ভ্রাতা শিহাবকে পুলিশের ধরপাকড় থেকে আড়াল করে দেয় এবং এএসপির সাথে মোবাইল ফোনে ওসি (তদন্ত)র সাথে আলাপ করায়।

পরিষদের সদস্যরা জানান,পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত হেফাজতে থাকা,১টি আলমারী,২টা সোকেস,১টা ক্যাবিনেট,৩টা ফ্যান,প্রিন্টার ১টি,মনিটর ২টি,সিপিইউ ১টা,চেয়ার কালো হাতল ৪টি,চেয়ারম্যানে চেয়ার ১টি,টেবিল ৫টি,প্লাষ্টিকের টেবিল ২টি,নোটিশ বোর্ড ১টি,অনার বোর্ড ১টি,পর্দা ৪টি,পতাকা ১টি,পতাকার স্ট্যান্ড ১টি,সিলিং ৫টি, সিলিং থাই,২ থাক বই,প্লাষ্টিকের মোড়া ২টি,ঝুড়ি ২টি,বালতি ও মগ ২টি,রেক ১টি,পলাষ্টিক চেয়ার ১০টি,কলস সিলভার ১টি,চালের ড্রাম ১টি,হাতাওয়ালা চেয়ার ৯টি,ষ্টেবিলাইজার ১টি,মাউস ২টিসহ পরিষদের আসবাবপত্র উদ্ধার করে আমরা হালুয়ারঘাট বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। আরো অনেক মূল্যবান মালামাল বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের হেফাজতে রয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন,চেয়ারম্যানের ভাতিজা একবার বা দুবার নয় একাধিকবার আমরা পরিষদের সদস্য সদস্যাদের উপর বর্বরোচিত হামলা করেছে। কিন্তু প্রভাবশালী এএসপির শ্যালক হওয়ায় আমরা পুলিশের কাছে কোন ন্যায়বিচার পাচ্ছিনা সন্ত্রাসী শিহাবের বিরুদ্ধে।

সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ খুরশিদ মিয়া বলেন,বরাখাস্তকৃত চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে সরকারী খাস খতিয়ানের জায়গার মাটি রাতের আধারে চুরি করে অন্যত্রে বিক্রি করত: সরকারের সম্পত্তির অপূরনীয় ক্ষতিসাধনের ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা মোঃ নুর আলী বাদী হয়ে জিআর মামলা নং ৪৭/২০২৪ইং (সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং ২০ তাং ১৫/০২/২০২৪ইং) দায়ের করেছেন। সদর কোর্টের উক্ত মামলায় সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিয়াজ উদ্দিন কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র নং ৮৭ তাং ৩১/০৩/২০২৪ইং ধারা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ইং এর ১২ ও ১৩ ধারা,বিজ্ঞ আদালত গ্রহন করে ঐ মামলাটিকে বিচারের জন্য বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে প্রেরণ করেন। গত ৫ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ হতে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের ভাতিজা শিহাবকে ভারতীয় মালামালসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯ সুনামগঞ্জ-৩ এর টহলদল। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ মিয়ার উপর হামলা ও লুটতরাজের মামলাসহ বর্তমানে একাধিক মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসী শিহাব।

অপর দিকে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের বাতিজা শিহাব বলেন, আমি সরকারি মালামাল হস্তান্তরে কেন বাঁধা দেব তাদের মালামাল তারা নিয়ে যাক, তাতে আমার সমস্যা নেই তবে যে পরিষদে তারা এতো দিন অফিস করেছে সেটা আমার ব্যাক্তিমালিকানাদিন ঘর তাদের কাছে আমি অফিস ভাড়া দিয়েছিলাম, কিন্তু পাঁচ ছয় মাসের ভাড়া আমি পাইনি হঠাৎ তারা এসেছেন অফিসের মালামাল নেওয়ার জন্য,কিন্তু আমার অনেক মাসের ঘর ভাড়া আটকানো, তাই তাদেরকে বলেছি আমার ঘর ভাড়া পরিশোধ করে তাদের মালামাল নিয়ে যাক সেই জন্য আমি বাঁধা দেই।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম বলেন,পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে যেই হউকনা কেন তার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com