শেরপুরে দেশের চলমান সংকট নিরসনে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে ‘তাওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর জেলা হেযবুত তওহীদের আয়োজনে শনিবার দুপুরে শেরপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেযবুত তাওহীদের রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মো. মশিউর রহমান।
মশিউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, মানবজাতির সার্বিক শান্তি ও কল্যাণ একমাত্র স্রষ্টার দেওয়া জীবনবিধান অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। মানুষের তৈরি কোনো মতবাদ বা ব্যবস্থা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বরং সংঘাত ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ নয়, একমাত্র আল্লাহ। তাই সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আল্লাহর বিধান বা তাওহীদের উপর ভিত্তি করে রচিত হতে হবে।
হেযবুত তওহীদ নেতা মশিউর রহমান তাওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, এই ব্যবস্থা কোনো পশ্চাৎপদ ধারণা নয়, বরং এটিই একমাত্র আধুনিক ও কল্যাণকর ব্যবস্থা। এই শাসনব্যবস্থায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ব্যবস্থায় নারীদের প্রকৃত সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান থাকবে না।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মশিউর রহমান বলেন, সত্যিকারের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মুক্ত গণমাধ্যমের নিশ্চয়তা একমাত্র আল্লাহর দেওয়া নীতিমালার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। যেকোনো তথ্য প্রচারের পূর্বে তার সত্যতা যাচাই করা, মিথ্যা পরিহার করা, এবং কারও বিরুদ্ধে মানহানিকর বা উপহাসমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকা গণমাধ্যমের অপরিহার্য দায়িত্ব, যা ইসলাম নির্দেশিত নীতি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নাঈম ইসলাম ও মোরাদুজ্জামান মুরাদ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হেযবুত তওহীদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মিয়া। সভায় আরও বক্তব্য দেন, হেযবুত তাওহীদের শেরপুর জেলা সভাপতি মুমিনুর রহমান পান্না, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সভাপতি এনামুল হক বাপ্পা এবং বিভাগীয় নারী নেত্রী রোজিনা আক্তার। সভায় সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।