পুলিশ কমিশনার: মানবিক উদ্যোগে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সম্পৃক্ততা জরুরি
রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হতদরিদ্র, অসচ্ছল ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে হার্নিয়া ও হাইড্রোসিল অপারেশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার বলেন, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের বহু মানুষ এখনও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে হার্নিয়া ও হাইড্রোসিলের মতো চিকিৎসাযোগ্য রোগের অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ায় অনেক রোগী দীর্ঘদিন শারীরিক কষ্ট ভোগ করেন এবং তাদের কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। এতে পরিবারগুলোর ওপরও বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা, সমাজসেবী সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।
তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সমর্থন প্রদানকারী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষকে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, সমাজসেবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের এ উদ্যোগ মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে হার্নিয়া ও হাইড্রোসিলের অস্ত্রোপচার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।