রাজধানীর মিরপুর-১১ এর প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি কারখানা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ বেকারি। ভেতরে ঢুকলেই বেরিয়ে আসছে আতঙ্কের চিত্র।
সেকশন-১১, ব্লক-সি, এভিনিউ-৫, ১৭/২৯, প্লট-৪, ৫ নম্বর রোডের ‘তালুকদার ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’র বিরুদ্ধে এখন একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে খাদ্য নিরাপত্তা, শ্রমিকের স্বাস্থ্য আর জনগণের জীবন।
অভিযোগ, মেঝেতে ময়লা, দেয়ালে ছত্রাক, খোলা অবস্থায় কাঁচামাল। শ্রমিকদের নেই এপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, মাথার ক্যাপ। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। এমন পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার পাউরুটি, বিস্কুট।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো ল্যাব টেস্ট ছাড়াই পণ্য বাজারজাত হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাচে অতিরিক্ত এমুনিয়া ও ইস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। ফলে খাদ্যের মান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় সংশয়।
কারখানাটির ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই ছাড়পত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও অগ্নিনিরাপত্তা সনদ সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়াই চলছে রমরমা ব্যবসা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ গ্যাস নিয়ে। দাবি করা হচ্ছে, তিতাসের অনুমোদন নেই। গোপন লেনদেনের মাধ্যমে লাইন টেনে প্রতিদিন ওভেন চালানো হচ্ছে। এতে যেমন রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।
কারখানার তরল ও কঠিন বর্জ্য সরাসরি আশপাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পাশের বাসিন্দারা। শিশু ও বয়স্করা নিয়মিত অসুস্থ হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি তথ্য সংগ্রহে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং ‘উপরের লোক আছে’ বলে ভয় দেখানো হয়েছে।
কারখানার মালিক হিসেবে মোঃ গোলাম ফারুক তালুকদার এবং ব্যবস্থাপনায় ‘রানা’ নামের একজনের নাম উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মালিক অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। এখনো সেই প্রভাব দেখাচ্ছেন। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে সরকারি কোনো নথি আছে কি না তা যাচাই সাপেক্ষ।
এ বিষয়ে মালিক ও ব্যবস্থাপকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসীর এক দফা দাবি: অবিলম্বে যৌথ অভিযান।
তারা চান বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, তিতাস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস একসঙ্গে এসে সব কাগজপত্র ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তাদের।
বেকারি পণ্য প্রতিদিন কোটি মানুষের নাস্তা। এই খাতে সামান্য অবহেলাও গণস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তাই অনুমোদনহীন কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি