৯ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের সার্বিক উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র এই অন্যতম প্রধান অঙ্গ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। জন্মলগ্ন থেকেই সংগঠনটি এদেশের নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের উন্নয়ন ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের সার্বিক বিকাশ অসম্ভব—এই মূলনীতি ধারণ করেই মহিলা দলের পথচলা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সংগঠনটি রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে যেমন বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনই নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে যুগে যুগে প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু এবং উপবৃত্তি প্রদানের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো নারী সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে আছে।
বিগত বছরগুলোতে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ভোটাধিকার হরণ ও নানা সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বিএনপির প্রধান অঙ্গ সংগঠন হিসেবে মহিলা দল রাজপথে সোচ্চার থেকেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণমানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানে সমতা আনা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের পূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করা।
আজকের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনর্গঠনের কাজ বেগবান হয়েছে। তাঁর ঘোষিত আগামী দিনের রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা বাস্তবায়ন এবং একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে মহিলা দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নারী সমাজকে দেশের মূলধারার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দেশের পুরো নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আজকের এই বিশেষ দিনের মূল অঙ্গীকার।
লেখক: দপ্তর সম্পাদক, বিরল পৌর বিএনপি
ও আহবায়ক, বিরল উপজেলা তাঁতীদল।