নরসিংদীর মাধবদীতে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সেলিম ওরফে ‘বোমা সেলিম’ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বায়েজিদ আহম্মেদ। একই সঙ্গে মাধবদী থানায় কর্মরত এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারেছ উদ্দিনকে ‘ম্যানেজ’ করে হামলা চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বায়েজিদ আহম্মেদ। ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ছোট মাধবদী এলাকার বাসিন্দা বায়েজিদ আহম্মেদ তার দুই প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো অর্থে নিজ বাড়িতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন। ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে খরমর্দ্দী এলাকার সেলিম ওরফে ‘বোমা সেলিম’ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতিতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বায়েজিদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও একটি মোটরসাইকেল লুটের চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে বাধা দিলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী বায়েজিদ আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, হামলার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। মামলা করলে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সেলিম ওরফে ‘বোমা সেলিম’-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে এলাকায় মানববন্ধন করে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার পাল্টা অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মাধবদী থানার এএসআই হারেছ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।