রাজশাহী দুর্গাপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলীয় প্রতীক (ধানের শীষ) ব্যবহার না করে উন্মুক্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও দলের মধ্যে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে দলটি।
প্রার্থী বাছাইয়ে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, স্বচ্ছ এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদেরই প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গত দেড় দশকে রাজনৈতিক ও আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদানকেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তৃণমূল শক্তিশালীকরণে, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় কোন্দল এড়াতে ও ঐক্য বজায় রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।
সংস্কার ও কাউন্সিলিং, স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। এর মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় করা হবে।
বিশেষ করে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা এবং রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে।
কর্মীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও মামলার শিকার নেতাকর্মীদের আর্থিক ও কর্মসংস্থানের দিক থেকেও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোতে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজশাহীর রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তাই দলগুলো এখন থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনমত নিজেদের পক্ষে আনার কৌশল নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে, মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝপ শুরু করেছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের প্রশ্ন আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন থাকছে কি?