নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও সোনারগাঁ সীমান্তবর্তী মদনপুর এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অনুমোদনহীন কারখানা, অবৈধ বালুর গদি ও সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অবৈধ গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি কয়েকটি অনুমোদনহীন কারখানা এক্সক্যাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মূল গ্যাসলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ
মদনপুর ও আশপাশের এলাকায় তিতাসের ৮ ইঞ্চি ব্যাসের উচ্চচাপের আকিজ সিমেন্টগামী বিতরণ লাইন থেকে ২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস নেওয়া হচ্ছিল। ওই সংযোগ ব্যবহার করে চানপুর, আন্দিরপাড় ও টিপুরদী এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া চুনের ভাট্টি, কয়েল ও মেটাল কাস্টিং কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছিল।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এসব অনুমোদনহীন স্থাপনার কয়েকটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট ও বন্দর জোনের কর্মকর্তারা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পুনরায় সংযোগ স্থাপন ঠেকাতে মূল লাইনের উৎসস্থল থেকেও সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়।
তবে একাধিক দফা অভিযান ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযানসংশ্লিষ্টদের তথ্য থেকে জানা গেছে। ফলে অবৈধ সংযোগের উৎস শনাক্ত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে মূল লাইনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কারখানার চুল্লিতে জ্বলতে থাকা আগুন ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় নেভানো হয়।
৩০০ আবাসিক চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন
মদনপুর ইস্ট টাউন আবাসিক প্রকল্প ও চানপুর এলাকায় তিন কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে থাকা অবৈধ গ্যাসলাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানে প্রায় ৩০০টি আবাসিক চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় কয়েক হাজার ফুট লোহার ও হোস পাইপ, বুস্টার, রেগুলেটর এবং পরিবর্তিত বার্নার জব্দ করা হয়।
অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ডসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধের ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
অবৈধ বালুর গদি ও জলাশয় ভরাট
মদনপুর ও বন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল, জলাশয় ও কৃষিজমি দখল করে বালুর গদি স্থাপন করা হয়েছে। ড্রেজারের মাধ্যমে খাল থেকে বালু উত্তোলন এবং খাল-জলাশয় ভরাটের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি জায়গা ও নদীর সীমানা রক্ষায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের সমন্বয়ে অবৈধ বালুর গদি ও স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার বলেন, মদনপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অনুমোদনহীন কারখানা, বালুর গদি ও সরকারি জায়গা দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অনুমোদনহীন শিল্পকারখানা, সরকারি জায়গা দখল এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।