ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মাহিদা নামে এক শিশুর ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই একটি সভ্য ও মানবিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মাহিদার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা কোনো ধরনের প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। মাহিদার পরিবার যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মানববন্ধনে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদস্য সচিব মোহাম্মদ সাবের হোসেন, ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জের প্রতিনিধি জয়ন্তী বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্র শক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদস্য সচিব শিমুল চৌধুরী, সজল চৌধুরী, যুবায়ের আহমদ, সাঈদ আব্দুল্লাহ হিমু, সুলতান নাঈমসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, একটি শিশুর ওপর যৌন সহিংসতা ও হত্যার মতো ঘটনা পুরো সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা মাহিদার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবার যাতে কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। তারা “মাহিদা হত্যার বিচার চাই”, “ধর্ষণ-হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও”, “অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার কর”, “মাহিদার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই”—এমন বিভিন্ন স্লোগানে তাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাব এলাকায় এসে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীরা মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন, মাহিদার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানিয়ে যাবেন।