সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ধলাই দক্ষিণ বালুমহালে চলছে সীমাহীন বালু লুটপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা ও সামাজিক আন্দোলন করেও থামানো যাচ্ছে না সিন্ডিকেটের এই তাণ্ডব। বালু খেকো চক্রের অবাধ দৌরাত্ম্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও এমনকি কবরস্থান পর্যন্ত।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তর রাজনগর ও উত্তর ঢালারপার এলাকার শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেট গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শতাধিক লিস্টার মেশিনের মাধ্যমে বাল্কহেড ভর্তি করে কোটি টাকার বালু পাচার করছে। প্রতি ফুট বালু ২০ টাকায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে— স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের অভিযান খবর পেয়ে আগেই পলায়ন করে যায় বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ফলে অভিযান শেষে ফের শুরু হয় লুটপাটের উৎসব।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, “আমাদের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাধা দিতে গেলে হুমকি দেওয়া হয় প্রাণনাশের।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, নদী ও পরিবেশ ধ্বংসে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, বালু লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। বুধবারী বাজার এলাকায় অভিযানে বালু উত্তোলনকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের অভিযানের পর সাময়িক বিরতি এলেও আবার শুরু হয় একই চিত্র।
নদীতীরবর্তী উত্তর রাজনগর, ঢালারপার, মোস্তফানগরসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ এখন ভয় ও ক্ষোভে দিন কাটাচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়— লিস্টার মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বালু তোলার নির্দেশ দিতে, যা নিয়ে নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এদিকে বালু লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত মতিউর মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের জমি নদীপাড়ে হলেও আমি বালু বিক্রির সঙ্গে জড়িত নই।
স্থানীয় মুরব্বি ইয়াকুব আলী জানান, বছরের পর বছর ধরে এই এলাকায় বালু তোলা চলছে। সড়ক, কবরস্থান, বাজারের পাশে নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ধলাই দক্ষিণ বালুমহাল সরকারিভাবে লিজকৃত হলেও, বিভিন্ন অজুহাতে একাধিক বালু সিন্ডিকেট কলাবাড়ী, বুধবারী বাজার, উত্তর রাজনগর, ঢালারপার ও মোস্তফানগর এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলন করছে।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর একটাই দাবি বালু খেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ।