মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ থেকে শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেছেন- সুশসান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলতে আমাদের সকলকেই মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।
তিনি বলেছেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে চলতে পারলেই একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তার শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
গত বুধবার (২৬ শে আগস্ট) সকাল ১০টায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) ১৪৪৮ হিজরী উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রদান অতিথির বক্তব্যে
তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণে জীবন পরিচালনা করার মধ্যেই সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আমরা যদি তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে পারি তাহলে ইহকাল ও পরকালে আমরা সাফল্য লাভ করতে পারব। তিনি সর্বক্ষেত্রে রাসুল (সা.) এর সীরাত অনুসরণের জন্য সকলকে অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, পাপ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। পাপ করলে অবশ্যই তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এজন্য পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে হবে। পদস্খলন হলেই তওবা করতে হবে। তিনি সকলকে সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করার অনুরোধ জানান।
হালাল উপার্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিসি সাইফুর রহমান বলেন, ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত হলো হালাল পথে উপার্জন। হারাম পথে অর্জিত ধনসম্পদে বর্ধিত শরীর বেহেশত প্রবেশ করবে না। তাদের নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত কোনকিছুই কবুল হবে না। তিনি সকলকে সৎপথে উপার্জনের জন্য অনুরোধ করেন।
সাইফুর রহমান বলেন, সকল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। পূর্ণ্যের জন্য রয়েছে পুরস্কার আর পাপ করলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। দুদকের হাত থেকে বাঁচতে পারলেও আল্লাহর হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। তিনি সবধরনের খারাপ কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান।
ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক হাবেজ আহমেদ এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ, মানবিকতা, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও শান্তির শিক্ষা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।