বরিশাল তাবিজ ও কবিরাজি চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পল্লী চিকিৎসক ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। সেখানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি কবিরাজি চিকিৎসা এবং তাবিজ-কবচ দেওয়ার কাজ করতেন। এ সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চলতে থাকে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তার ভাতিজির লেখাপড়ার উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চান। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ওই নারীকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মাহাবুবের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে ভুক্তভোগী চলে আসতে চাইলে মাহাবুব তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।