দক্ষিণ কোরিয়া যেতে ভিসার আবেদন জমা দিতে ঢাকায় কোরিয়া দূতাবাসের সামনে ভিসাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন ও ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই সকাল থেকে দূতাবাসের সামনে শিক্ষার্থী, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের ভিসাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুই থেকে তিন দিন আগেই এসে লাইনে দাঁড়িয়েও আবেদন জমা দিতে পারছেন না। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পরিবার, পর্যটক ও অন্যান্য ভিসাপ্রত্যাশীদেরও ভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ভিসাপ্রত্যাশীদের কয়েকজন জানান, সেপ্টেম্বর সেশনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে এই সময়ে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক আবেদন গ্রহণ করায় অনেক আবেদনকারীকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন পর্যটক ভিসাপ্রত্যাশী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানান, তিনি গত ৭ আগস্ট থেকে কোরিয়া দূতাবাসের সামনে এসে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আজ ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তার আবেদন জমা দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, “আগামী ২৪ আগস্ট আমার একটি কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখনো ভিসার আবেদনই জমা দিতে পারিনি। কবে আবেদন জমা দিতে পারব, কবে ভিসা পাব এবং শেষ পর্যন্ত কনফারেন্সে যেতে পারব কি না—কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
এদিকে, দূতাবাসের ভিসা সংক্রান্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের সময় রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে কোরিয়া দূতাবাস শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর অন্তত পাঁচ দিন আগে ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
কোরিয়া দূতাবাসের ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন জমা দিতে হয় এবং ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আবেদন প্রক্রিয়ায় ইন-পার্সন কিউ নম্বর ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
তবে বর্তমানে দূতাবাসের সামনে দীর্ঘ লাইনের কারণে শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে কোরিয়া দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
ভিসাপ্রত্যাশীদের দাবি, শিক্ষার্থী ও পর্যটকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত আবেদন গ্রহণের সুযোগ এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাদের নির্দিষ্ট তারিখে কনফারেন্স, শিক্ষা কার্যক্রম বা অন্যান্য জরুরি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।