চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অবনতি। এই বছর পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
অনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রামসহ কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন, এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৫২ হাজার ৭৫৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী।
গত বছরের পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, এবং পূর্ববর্তী বছরগুলোতে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ (২০২৪), ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ (২০২৩) এবং ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ (২০২২)।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনাদায়ক খবর এসেছে, যেখানে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অপরদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
জেলাভিত্তিকও হতাশাজনক ফলাফলের চিত্র দেখা গেছে। খাগড়াছড়িতে পাসের হার ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ ও বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার তুলনামূলকভাবে ভালো, ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। আর, কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে ৮টিতে দাঁড়িয়েছে।
অনুত্তীর্ণদের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন শুধুমাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী মঙ্গলবার থেকে ১৭ আগস্টের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।