চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের নতুন গতি এসেছে। মহাসড়ক উন্নয়ন, জেলা সড়ক প্রশস্তকরণ, সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক বড় প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামসহ পার্বত্য ও কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
চট্টগ্রাম সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল হালিম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহে আরেফীন-এর প্রশাসনিক ও কারিগরি তদারকিতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কাজের অগ্রগতি, কারিগরি মান এবং সড়কের স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার বড় প্রকল্প
চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন পাঁচ জেলার ১৬টি জেলা মহাসড়কের প্রায় ২৪৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রাউজান-নোয়াপাড়া, রাঙ্গুনিয়া-বাঙালহালিয়া, মরিয়মনগর-রানিরহাট, পটিয়া-আনোয়ারা, পটিয়া-চন্দনাইশ-বৈতলী, মইজ্জারটেক-বোয়ালখালী-কানুনগোপাড়া এবং কক্সবাজারের হোয়াইক্যং-শাপলাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে।
এসব সড়কের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রশস্তকরণের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গুরুত্ব
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ জাতীয় মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগপথ। এ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলছে।
কক্সবাজার ও টেকনাফের সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ সচল রাখা, পর্যটন ও বাণিজ্যিক যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং সড়কের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার
বর্ষা, অতিবৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাসফাল্টসহ আধুনিক নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কার্পেটিং ও মেরামত করা হচ্ছে।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ড্রেন-কালভার্ট
চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি পাহাড়ধস ও সড়ক ভাঙন রোধে রিটেইনিং ওয়াল, গাইড ওয়াল ও আরসিসি প্লেট প্যালিসেডিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
চলমান পরিকল্পনার আওতায় ১১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট এবং ১৬৪টি নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। এসব অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন ও সড়ক সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পার্বত্য ও সীমান্ত যোগাযোগে উন্নয়ন
চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কের উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টানেল সংযোগ সড়কেও গুরুত্ব
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলকে ঘিরে চট্টগ্রাম ও আনোয়ারা অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্ব বেড়েছে। টানেল সংযোগ সড়ক, সেতু, কালভার্টসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এতে নগরীর সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তদারকিতে প্রশাসনিক ও কারিগরি সমন্বয়
চট্টগ্রাম সড়ক জোনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কারিগরি তদারকিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল হালিম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহে আরেফীন সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে যুক্ত রয়েছেন।
প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন, কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা
চট্টগ্রাম দেশের বন্দর, শিল্প, পর্যটন ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ফলে এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে পণ্য পরিবহন, পর্যটন, শিল্প ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চলমান বড় প্রকল্প, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ আরও আধুনিক, টেকসই ও জনবান্ধব হয়ে উঠছে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।