কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোরক বিদ্যাপীঠের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ এর প্রধান শিক্ষক নুরুল আখের, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সাইফুল কাদের,এবং শিক্ষক ফজলুর কাদেরসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাধ্যমিক শাখার সিনিয়র শিক্ষক আনছারুল করিম এবং প্রাথমিক শাখার সিনিয়র শিক্ষক রিদুয়ানুল হক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে,বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যত বেশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে, তত বেশি তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বৃদ্ধি করে। বিদ্যালয়ভিত্তিক এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।”
অনুষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দে পুরো অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিরা কোরক বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।