সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এক সময় ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাথরের রাজ্য। এখানকার মাটি জুড়ে ছড়িয়ে আছে পাথর, বালু আর সেইসাথে হাজারো শ্রমিকের ঘাম। এই অঞ্চলের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পাথর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত— কেউ পাথর ব্যবসায়ী, কেউ শ্রমিক, কেউ পরিবহন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহে নিয়োজিত।
কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসনিক জটিলতা ও পরিবেশগত কারণে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় কোম্পানীগঞ্জে নেমে এসেছে অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের ভয়াবহতা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কোয়ারি বন্ধ থাকায় তাদের পরিবারগুলো অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে শহরে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, আবার অনেকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত।
এক শ্রমিকের ভাষায়—
“আমরা তো পাথরের মানুষ। পাথর ছাড়া আমাদের জীবনে আলো নেই। দিন চলে না, সংসার চলে না।”
স্থানীয়রা বলছেন, আগে যেভাবে প্রাকৃতিকভাবে সনাতন পদ্ধতিতে হাতে ও যন্ত্রের সাহায্যে পাথর উত্তোলন হতো, তাতে পরিবেশের তেমন ক্ষতি হতো না। তারা বিশ্বাস করেন, সনাতন পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে কোয়ারি খুলে দিলে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, তেমনি হাজারো মানুষ আবার জীবিকার আলো ফিরে পাবে।
বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব সনাতন পদ্ধতি ও সরকারি তত্ত্বাবধানে কোয়ারি পুনরায় চালু করলে স্থানীয় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, পাশাপাশি অবৈধ উত্তোলনও বন্ধ করা যাবে।