গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারেন্ডা এলাকার অন্যরকম পার্কের সামনে রাস্তার নির্মাণকাজ উদ্বোধনের প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। রাস্তার ওপর বিপুল পরিমাণ ইটের খোয়া ফেলে কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ১০টি ড্রেনসহ রাস্তার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার। উদ্বোধনকালে সংশ্লিষ্টদের আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও বারেন্ডা এলাকার অন্যরকম পার্কের সামনের সড়কটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। বর্তমানে পুরো সড়কের ওপর ইটের খোয়া ছড়িয়ে রেখে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বড় একটি অংশজুড়ে ছোট-বড় ইটের খোয়া ছড়িয়ে রয়েছে। সমতল পাকা চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীদের খোয়ার ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পায়ে ব্যথা ও আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি ও বিড়ম্বনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সড়কে রোলার ব্যবহার করে খোয়া যথাযথভাবে কমপ্যাক্ট বা শক্ত করা হয়নি। ফলে খোয়া ছড়িয়ে রাখার পরও রাস্তার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়নি।এ ছাড়া রাস্তার দুই পাশে যে গাঁথুনি/সাইড সাপোর্ট থাকার কথা, সেটিও এখনো যথাযথভাবে দৃশ্যমান নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, রাস্তার দুই পাশের গাঁথুনি ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট যথাযথভাবে সম্পন্ন না করে পরবর্তী কাজ করা হলে ভবিষ্যতে রাস্তার কিনারা সরে যেতে পারে, রাস্তা বসে যেতে বা একদিকে বেঁকে যেতে পারে। এতে নতুন করে রাস্তা মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রকৌশলগতভাবে কাজের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কী ধরনের গাঁথুনি বা সাইড সাপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় নি।রাস্তার কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের পক্ষ থেকে বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও মানুষের চলাচলের জন্য অন্তত রাস্তার খোয়া সমতল ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না কেন?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিনই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে বেশি সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে খোয়া, কাদা ও পানি জমে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার ওপর এভাবে খোয়া ফেলে রেখে কাজ দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে রাস্তার প্রয়োজনীয় গাঁথুনি ও সাইড সাপোর্ট, রোলার দিয়ে খোয়া কমপ্যাকশন এবং পরবর্তী নির্মাণকাজ যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উদ্বোধনের সময় ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও প্রায় পাঁচ মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।