রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের কয়েকটি গ্রামে এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি। গোলাবারু ছড়া, ভাইজ্যতলী ও হরিণছড়াসহ দুর্গম এলাকাগুলোর শত শত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
কাপ্তাই উপজেলা সদর ও নিকটবর্তী এলাকার মধ্যে এসব গ্রামের অবস্থান হলেও ভৌগোলিকভাবে এগুলো অত্যন্ত দুর্গম।
পাহাড়-অরণ্যবেষ্টিত এসব গ্রাম একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করাও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ফলে আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক সুবিধা বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী।
স্থানীয়দের মতে, এসব এলাকায় প্রচলিত বিদ্যুৎ সংযোগের পরিবর্তে প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারি উদ্যোগে উন্নতমানের সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে ঘর আলোকিত করার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা, মোবাইল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ভানুমতি চাকমা (ভানু মেম্বার) জানান, দুর্গম এসব এলাকার মানুষের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও চেষ্টা করে আসছেন। গত প্রায় তিন বছর ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
ভানু মেম্বার বলেন, “আমাদের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৫৬০টি পরিবার রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া কঠিন। সরকারের অর্থায়নে প্রতিটি পরিবারে যদি সোলার সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে এই মানুষগুলো অনেক উপকৃত হবে। আমরা কি কখনো আলোর পথ দেখার সুযোগ পাব না?”
তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যুতের বিকল্প নেই। সরকার যদি সোলার প্ল্যান্ট বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। এ সহযোগিতার জন্য আমরা সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।”
ভানু মেম্বার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষও দেশের নাগরিক। তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এসব এলাকার শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় হতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগে বাড়িভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও টেকসইভাবে বিদ্যুতের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপদ পানি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তারা।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের ৫৬০ পরিবারের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।