সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার অমর ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সরকারি সীমানা নির্ধারণ, খুঁটি স্থাপন এবং তাঁর নির্দেশে পাকা সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মারুফ আহমদ জুবেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুনরায় সরকারি রাস্তা পরিমাপের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগকারী মারুফ আহমদ জুবেল উপজেলার কুরুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও হাজী হিরণ মিয়ার ছেলে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণের সময় পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের কাউকে অবহিত করা হয়নি। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিদ্যমান রাস্তা অক্ষুণ্ন রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির প্রায় চার ফুট ভেতরে সরকারি সীমানা হিসেবে খুঁটি স্থাপন করা হয়। প্রতিবাদ জানালে সার্ভেয়ার অমর ফারুক সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন বলেও তিনি দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে কুরুয়া চতলিবন পর্যন্ত একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে হাজী আব্দুল হকের মালিকানাধীন কুরুয়া হেলথ সেন্টারের ২৭১ ও ২৭২ নম্বর দাগ এবং হাজী হিরণ মিয়ার ৩৪৪ ও ৩৪৫ নম্বর দাগের ভূমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা বিদ্যমান সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করে আসছেন। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলা সার্ভেয়ার অমর ফারুক সেখানে সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করতে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সার্ভেয়ারের উপস্থিতিতেই কয়েকজনকে সীমানা প্রাচীর অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরদিন বুধবার সকাল ৭টার দিকে একই গ্রামের আব্বাস মিয়া, সুরুজ আলী গেদা, সাবুল মিয়া ও তাদের সহযোগীরা কুরুয়া হেলথ সেন্টারের পাকা সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে ইট ও বাঁশের খুঁটি স্থাপন করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আবুল খয়েরের মেয়ে ডলি বেগমকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবুল মিয়া বলেন, সরকারি রাস্তা হওয়ায় সার্ভেয়ার রাস্তা পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে রাস্তা পরিষ্কার করেছি।
আব্বাস মিয়া বলেন, সার্ভেয়ার সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করেছেন। সেই অনুযায়ী চলাচলের সুবিধার্থে সীমানা প্রাচীর সরানো হয়েছে।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সুরুজ আলী গেদা বলেন, সরকারি রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করতেই সামান্য অংশের সীমানা অপসারণ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সার্ভেয়ার অমর ফারুক বলেন, আমি শুধু সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করেছি। কোনো সীমানা প্রাচীর ভাঙার নির্দেশ দিইনি। আবেদনকারীদের আশপাশের জমির মালিকদের উপস্থিত রাখতে বলা হয়েছিল। স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জনের উপস্থিতিতেই সরকারি রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মারুফ আহমদ জুবেল বলেন, সরকারি রাস্তার বর্তমান প্রস্থ বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট। গ্রামবাসীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা নিজেরাই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ছেড়ে প্রায় ১৩ ফুট প্রশস্ত রাস্তা করে দিয়েছি। তারপরও বিদ্যমান রাস্তা অক্ষুণ্ন রেখে আমাদের জমির ভেতরে নতুন করে সরকারি সীমানা নির্ধারণ করায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সার্ভেয়ার সীমানা প্রাচীর ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সরকারি রাস্তা পুনরায় পরিমাপ করে প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।