1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
একজন নক্ষত্র আলোক বর্তিকা এমাজউদ্দীন স্যার - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ। চাটমোহরে ঘোড়া ফজলুর বিরুদ্ধে মামলা। পাঁচ মাদক সেবীর কারাদন্ড মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্সের জেসমিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন, টাকা ফেরত ও শাস্তির দাবি চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীর যুবদলে যোগদান খুলনায় হেলদি সিটি ফোরামের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্যমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবিতে বাঙ্গালহালিয়াতে মানববন্ধন গফরগাঁওয়ে বজ্রপাতে নিহত ১ জলঢাকায় তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন ৪ দফা দাবিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি শিশুশ্রম থেকে শিশুদের দুরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ : আব্দুল্লাহ হারুন

একজন নক্ষত্র আলোক বর্তিকা এমাজউদ্দীন স্যার

reporter মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা
calendar প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৫, ৫:১০ অপরাহ্ণ

উৎসর্গ: অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৭ জুলাই, নিঃশব্দে পার হলো বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং প্রশাসক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ-এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর মতো একজন চিন্তাবিদের প্রস্থান আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রচিন্তায় পরিপক্ব, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন রাজনৈতিক চিন্তার বহুমাত্রিক ধারার একজন শক্তিমান গবেষক। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপিপন্থী সুধীসমাজের নেতৃত্বে ছিলেন, তবুও তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সকল রাজনৈতিক মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তিনি ভিন্নমতকে সমালোচনা করলেও তা বাতিল করতেন না— বরং যুক্তির টেবিলে এনে চিন্তার খোরাক জোগাতেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তাঁকে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে মূল্যায়ন করা সঠিক নয়। তাঁর রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা ও বক্তৃতা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করেছে।

উপাচার্য হিসেবে এক ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়

১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। সেই সময় বিএনপি সরকার তাঁকে নিযুক্ত করলেও, তাঁর প্রশাসন পরিচালনা ছিল দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁকে স্মরণ করে বলেন—

“উপাচার্য হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ছিল চমকপ্রদ। তিনি মতের পার্থক্য থাকলেও সব মতকে শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর বক্তৃতা ছিল সহজবোধ্য ও গভীর চিন্তাসমৃদ্ধ।”

ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ: একটি রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা ও একজন শিক্ষক

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালে তেজগাঁও শাহীনবাগ সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে আমি (লেখক) আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে পুলিশের সামনে রক্তাক্ত হই।
জীবন বাঁচিয়ে ফার্মগেটের আল রাজী হাসপাতালে আশ্রয় নেই। সেখান থেকে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, কবি আব্দুল হাই শিকদার ও আফরোজা আব্বাস আমাকে নিয়ে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আমার ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এই মানবিক সহানুভূতি আজও আমার হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে। এমন ব্যক্তিত্ব আজকের বাংলাদেশে বড় বেশি অনুপস্থিত।

এক প্রাসঙ্গিক অনুপস্থিতি

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ সব সময় চাইতেন— বাংলাদেশে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র যেন সহাবস্থান করে। মৌলবাদের পরিবর্তে যুক্তি, সহনশীলতা ও মানবিক রাজনীতির বিজয় ঘটুক।
যদিও তিনি বিএনপির সমর্থক ছিলেন, তবুও তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোটকে নীতিগতভাবে গ্রহণ করেননি।

তিনি ছিলেন আদর্শ ঢাকা নাগরিক আন্দোলন, শতনাগরিক কমিটিসহ অসংখ্য সংগঠনের সভাপতি বা উপদেষ্টা।

একটি অপূর্ণ প্রস্থান

২০০০ সালের ১৭ জুলাই, শুক্রবার, তিনি রাজধানীর এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরে তিঁনি শায়িত আছেন।
আজ তাঁর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে নেই কোনো রাষ্ট্রীয় আয়োজন, নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্মরণসভা।

তবুও তাঁর চিন্তা, যুক্তি ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও গণতন্ত্রপ্রয়াসী মানুষদের মনের মন্দিরে আজও দীপ্ত আলো হয়ে জ্বলছে।

আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এই দেশ একদিন তাঁর দেখানো চিন্তার পথেই এগিয়ে যাবে।এই আমাদের প্রার্থনা ও অঙ্গীকার।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com