গত ২৭ তারিখ দুপুরে শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায় আটককৃত মাদক কারবারীর জবানবন্দির ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সেই সংবাদের একাংশের বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বি এবং ‘তেওতা সমাজ কল্যাণ ও মাদক বিরোধী পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ একটি ব্যাখ্যামূলক সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। আসামীর জবানবন্দি থাকা সত্ত্বেও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং মুরুব্বিদের বিশেষ সুপারিশের প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘দৈনিক ঘোষণা’র পাঠকদের জন্য পূর্বের উক্ত সংবাদের একটি সংশোধনী প্রকাশ করা হলো।
উল্লেখ্য, গত ২৬ তারিখ রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তেওতা এলাকায় মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটকের পর ওই রাতেই উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সামনে আসামী একটি জবানবন্দি দেয় যা ভিডিওতে ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং দুপুরে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সংবাদটি প্রকাশের পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি তৈরি হলে বিষয়টি নিরসনে তেওতা এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বি এবং ‘তেওতা সমাজ কল্যাণ ও মাদক বিরোধী পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ একটি যৌথ সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
স্থানীয় মুরুব্বিদের দাবি, আটককৃত আসামী মূলত একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারী। ২৬ তারিখ রাতে জনসম্মুখে জবানবন্দি দেওয়ার সময় সে ভয়, মানসিক বিকার কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুবদল কর্মী মোঃ শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কর্মী মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ ইসমাইল, মোঃ আবির মিয়া, মোঃ রেজাউল মিয়া, মোঃ টিটু শেখ, শ্রী সঞ্জয়, যুবদল কর্মী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আলমগীর, মোঃ মিন্টু গাজী, মোঃ গনি কাজী, মোঃ মানিক মোল্লা এবং সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ খান-এর নাম জড়িয়েছে। মুরুব্বিরা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান ঘটনা বা মাদকের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আসামীর জবানবন্দিতে নাম আসা সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে এলাকার মুরুব্বিদের বিশেষ সুপারিশ ও অনুরোধের প্রেক্ষিতে উল্লেখিত ব্যক্তি—যুবদল কর্মী মোঃ শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কর্মী মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ ইসমাইল, মোঃ আবির মিয়া, মোঃ রেজাউল মিয়া, মোঃ টিটু শেখ, শ্রী সঞ্জয়, যুবদল কর্মী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আলমগীর, মোঃ মিন্টু গাজী, মোঃ গনি কাজী ও মোঃ মানিক মোল্লা-কে আপাতত নির্দোষ বিবেচনা করা হলো। পাশাপাশি, আসামী ধরতে সহযোগিতা করতে তার সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করার শর্তে সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ খান-কেও আপাতত নির্দোষ বিবেচনা করা হলো। তবে ‘তেওতা সমাজ কল্যাণ ও মাদক বিরোধী পরিষদ’ এবং মুরুব্বিরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, এটিই প্রথম ও চূড়ান্ত সুযোগ। ভবিষ্যতে যদি উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক বা এ জাতীয় কোনো অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার বিন্দুমাত্র প্রমাণ বা অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে সামাজিকভাবে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এলাকার সার্বিক এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তেওতা এলাকার মুরুব্বিদের সামাজিক ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নির্দোষ কেউ যেন সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন না হন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে পূর্বের প্রকাশিত সংবাদটির এই সংশোধনী প্রকাশ করা হলো। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ‘তেওতা সমাজ কল্যাণ ও মাদক বিরোধী পরিষদ’-এর মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে দৈনিক ঘোষণা সাধুবাদ জানায়।