দিনাজপুরের বিরলের নলদিঘী-মাটিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুর্ভোগের চিত্র
দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় আবাদী জমির আইল আর কাদা-মাটি মাড়িয়ে প্রতিদিন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। চারপাশ ফসলি জমিতে ঘেরা থাকায় বিদ্যালয়টিতে যাতায়াতের কোনো স্থায়ী রাস্তা নেই। ফলে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে পায়ে হেঁটে চরম কষ্ট সহ্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এটি উপজেলার ধামইড় ইউনিয়নের নলদিঘী-মাটিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যদিনের চিত্র।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুর্ভোগের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমছে, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, শুকনো মৌসুমে জমির আইল দিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে চিত্রটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত ভয়াবহ। আইল কাদায় পিচ্ছিল হয়ে গেলে বা পানিতে তলিয়ে গেলে ছোট শিশুদের পক্ষে স্কুলে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে শিশুদের বই-খাতা নষ্ট হয় এবং জামা-কাপড় কাদায় মাখামাখি হয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে বলেন,
”রাস্তা না থাকায় আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। দীর্ঘ পথ হেঁটে আসতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। একটি স্থায়ী রাস্তার অভাবে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে অবিলম্বে একটি সংযোগ সড়ক অত্যন্ত জরুরি।”
একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা হলেও, নলদিঘী-মাটিয়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ তাদের মৌলিক এই অধিকারটুকু পেতে প্রতিদিন প্রতিকূল যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে যুদ্ধ করছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি—বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জমির মালিকদের সাথে আলোচনা করে বা সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার পথ নিরাপদ করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।