ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। সেই সাথে চরম ভাঙনঝুঁকির মুখে পড়েছে অর্ধশত বছরের পুরনো গ্রাম্য গোরস্থান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ। চোখের সামনে ভিটেমাটি ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ। এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলাসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আফসার মুন্সী কান্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সেখানে প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীপাড় জুড়ে চলছে ভাঙনের তাণ্ডব। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী গোরস্থানটি—যেখানে দেড় থেকে দুইশ মানুষের শেষ ঠিকানা রয়েছে, সেটিও এখন নদীর কিনারে ঝুলছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো গোরস্থানটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা। এদিকে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে অনেকেই তাদের শেষ সম্বল ঘরবাড়ির আসবাবপত্র, টিনের চাল ও গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন।
আফসার মুন্সী কান্দির বাসিন্দা মামুন মুন্সী ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “চলতি মৌসুমেই আমাদের গ্রামের প্রায় একশ বিঘার বেশি জমি নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের ঐতিহ্যবাহী অর্ধশত বছরের গোরস্থান, চর অর্জনপট্টী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় মসজিদটি চরম হুমকির মুখে। নদী এসব স্থাপনা থেকে মাত্র দুইশ গজ দূরে অবস্থান করছে। এখনই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে আমাদের গ্রাম।”
মানববন্ধনে নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া মোজাম্মেল মুন্সী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাড়ির এই জমিটুকুই আমার শেষ সম্বল ছিল। একরাতের মধ্যেই নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন গবাদিপশু আর সামান্য মালামাল নিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি। নদী আমাকে নিঃস্ব করে দিল, পরিবার নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।” একই করুণ আকুতি জানান স্থানীয় বাসিন্দা নুরু মুন্সী, সালাম মুন্সিসহ ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ।
ভাঙন পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে চরমানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিনে তদন্ত করে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে চরাঞ্চলবাসীর দুঃখ-দুর্দশা চিরতরে লাঘব করতে হলে কেবল সাময়িক ফেলিং নয়, দ্রুততম সময়ে টেকসই ও স্থায়ী নদীরক্ষাবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।”
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা নিঃস্ব হওয়া থেকে বাঁচতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গোরস্থান রক্ষায় অবিলম্বে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।