নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত মনিয়ন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, নিয়মিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ঘাটতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির কার্যক্রম নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে অসহায় রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটির ইনচার্জ হিসেবে রিনা বেগম দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কেন্দ্রটির বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কাছে জানতে চাইলে তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে কেন্দ্রটির বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হুমকিসূচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতেও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। বর্তমানে সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্রটির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিতভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রকৃত পরিস্থিতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।