সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় টি আর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে মোট ১৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্প ঊপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামীন জনপদে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (পিআইও) অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব গ্রামীণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের কার্যালয় অন্তত ১০০টি পাকা সড়ক নির্মাণ করে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় সুবিধাভোগীদের প্রশংসায় ভাসছে। মাটির বদলে পুরনো রাস্তাগুলোকে ৮-১৩ ফিট প্রস্থ ও ৫০০-১০০০ হাজার মিটার দৈর্ঘ্য করে গ্রামীণ চলাচলের আপদত স্থায়ী সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। এতে উপজেলার লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি দৃশ্যমান হয়েছে স্থানীয় সরকারের উন্নয়নও।
উক্ত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, মাটি ভরাট, কালভার্ট মেরামতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নতুনভাবে সিসি ঢালাইকৃত রাস্তা পেয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী খুবেই খুশি। কারণ এই রাস্তা অতি সহজে বৃষ্টি হলেও তাদের দৈনন্দিন কৃষি পণ্য পরিবহন সহ যাবতীয় কার্যক্রমে কোন ব্যাঘাত ঘটবে না।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানান, এবারের মাটির কাজের পরিবর্তে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সড়কগুলো পরিদর্শন করে সামান্য মাটির কাজ করে এই বরাদ্দে পাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এতে বিস্মিত হন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা। পরে ১০০টি সড়কের প্রকল্প গ্রহণ করে সিসি রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৯০ ভাগ সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়ায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক পাকা হয়ে যাবে বলে জানান তারা। এই সড়কগুলো স্থানীয় বাজার, সদর রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় লিংক সড়ক হিসেবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মানুষজন ব্যবহার করছেন।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মঈনুল হক বলেন, আমার ইউনিয়ন বড়। কিন্তু বরাদ্দ কম। এই কম বরাদ্দেও এবার বেশ কয়েকটি পাকা সড়ক করেছি। যা দিয়ে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং এর সুবিধা টানা কয়েক বছর ভোগ করতে পারবেন।টি আর কাবিখা বরাদ্দকৃত সিসি ঢালাইয়ে রাস্তা সংযোজন সরকারে একটি নতুন পদক্ষেপ। ফলে আমাদের এই গ্রামীন এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ যাতায়ত সহ চলাচলের সমস্যা হবে না এবং সুফল ভোগ করবে।
লক্ষণশ্রী ইঊনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন বলেন, বর্তমান পিআইও স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি। তিনি টিআর কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের আওতার ফান্ট হতে শতভাগ উন্নয়নমুলক কাজের জন্য বরাদ্দ করায় আমরা আন্তরিক। টিআর প্রকল্পের আওতায় এ সকল উন্নয়ন মুলক কাজ হওয়ার এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর ঊপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত সরকার বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় টি আর ও কাবিখা প্রকল্পসমূহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সময়মতো ১৩৫টি প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন,বৃষ্টির মৌসুমে যাতে চলাচলের অসুবিধা না হয় সে জন্য মাটির রাস্তার পরিবর্তে পাকা রাস্তা করার প্রকল্প দিয়ে কাজ করার উদ্যেগ নেই। বরাদ্দের বেশিরভাগ পাকা সড়ক নির্মাণে ব্যাবহার করেছি। চেয়ারম্যান মেম্বারদের সহযোগিতা উক্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
কাজ আমি পরিদর্শন করেছি এবং কাজগুলো সন্তোষ জনক হয়েছে। এতে এলাকার যেমন উন্নয়ন হয়েছে তেমনি এলাকাবাসীও সন্তোষ প্রকাশ করেছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে উন্নয়ন কাজ অব্যহত থাকবে।