সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় গভীর রাতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর প্রতিবাদ করায় দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বৃদ্ধসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন হাবুর পয়েন্ট এলাকায় এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আনুমানিক রাত ১টা থেকে ২টার দিকে চালবন হাবুর পয়েন্টের রতন নামের এক ব্যক্তির দোকানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হচ্ছিল। গভীর রাতে তীব্র আওয়াজের কারণে আশপাশের অবুঝ শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের ঘুমের চরম ব্যাঘাতসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে এলে একই এলাকার জুয়েল মিয়া (৩৩) নামের এক যুবক ওই দোকানে গিয়ে গভীর রাতে সাউন্ড বক্স বাজাতে নিষেধ করেন। কিন্তু তার নিষেধ না শুনে উল্টো দোকানে থাকা বিল্লাল নামের এক যুবক জুয়েলের সাথে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই জনের মধ্যে তুমুল কথা-কাটাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।
ওই সময় আশপাশে ডিউটিরত থাকা বিশ্বম্ভরপুর থানার পুলিশ বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সাউন্ড বক্সটি বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
প্রাথমিকভাবে রাতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এর জের ধরে পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জানা যায়, জুয়েল মিয়া সকালে তার নিজস্ব দোকান খুলতে আসলে পূর্ব বিরোধের জেরে দ্বিন ইসলাম (৪০), বিল্লাল (৩২), মোকাব্বির (২৫), বাদশা (২৮), জয়নাল (৪৫) ও মমিন (২৬) সহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জুয়েলের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে।
এদিকে জুয়েলের ওপর হামলার খবর পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আব্দুল কাইয়ুম (৭৫), গোলাম মোস্তফা (৩৫), মাছুম (২৮) ও আব্দুল হান্নান (২২) সহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আহত আব্দুল কাইয়ুম ও অন্যান্য আহতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দ্বিন ইসলাম, বিল্লাল ও তাদের সহযোগীদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহীন মিয়া জানান, সলুকাবাদ ইউনিয়নের হাবুর পয়েন্টে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।